গাইনি চিকিৎসক সংকটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও প্রয়োজনীয় আধুনিক অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও কেবল গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে দীর্ঘ নয় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে অস্ত্রপচার সেবা। ফলে স্বল্প খরচে সরকারি এই চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার হাজার হাজার প্রসূতি মা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা গেছে, স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) সেবা চালু থাকলেও জরুরি অস্ত্রোপচার সেবা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। এর জন্য প্রয়োজনীয় ওটি, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং এনেস্থেসিয়া সরঞ্জাম বিদ্যমান থাকলেও কেবল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে সেগুলো ধুলোবালি ও মরিচা ধরার উপক্রম।
উপজেলার সাতটি বেসরকারি ক্লিনিক থেকে সংগৃহীত তথ্যে জানা যায়, গত মার্চ মাসে এসব ক্লিনিকে ২২০টি সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে এই সেবা বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন চিকিৎসার ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে বেসরকারি ক্লিনিকে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালে আসা এক গর্ভবতী নারীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে ওটি আছে, সব ব্যবস্থা আছে তবুও যদি আমাদের হাজার হাজার টাকা খরচ করে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হয়, তবে এই হাসপাতালের দরকার কী? গরিব মানুষের জন্য এটা অত্যন্ত কষ্টের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গাইনি বিশেষজ্ঞ না থাকায় জরুরি মুহূর্তে রোগীদের জেলা সদরে বা অন্যত্র স্থানান্তর করতে হয়। এতে যাতায়াতের পথে মা ও নবজাতকের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং মৃত্যু ঝুঁকি দিন দিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. ফিরোজ আলম বলেন, আমাদের ওটি সচল করার জন্য প্রয়োজনীয় সব কারিগরি সুবিধা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট গাইনি বিশেষজ্ঞ না থাকায় আমরা অস্ত্রোপচার করতে পারছি না। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার লিখিতভাবে জানিয়েছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল আহামেদ বলেন, গাইনি বিশেষজ্ঞের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিলে আমরা পুনরায় ওটি সচল করে সাধারণ মানুষকে সেবা দিতে পারব।

এস কে সুজন, ঠাকুরগাঁও (পীরগঞ্জ-রানীশংকৈল)