হাওরাঞ্চলে কৃষক সংকট, জরুরি রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ দাবি এনসিপির
নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টি, উজানের ঢল এবং আকস্মিক প্লাবনের কারণে চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বহু এলাকায় কৃষকরা পানিবন্দি অবস্থায় তাদের পাকা ধান রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। কোথাও কোথাও ধান কাটা শুরু হলেও তা স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছে না। অনেক পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে, যা কৃষকদের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এতে সৃষ্ট হওয়া সংকটে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে দলটির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও কৃষি সম্পাদক কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিমের স্বক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, বিদ্যমান শ্রমিক সংকট, আধুনিক কৃষিযন্ত্রের অপ্রতুলতা এবং ফসল রক্ষা বাঁধের দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রম ও একমাত্র ফসল আজ প্রকৃতির বিরূপতা এবং ব্যবস্থাপনার ঘাটতির দ্বৈত চাপে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকারের কাছে অবিলম্বে নিম্নোক্ত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে—
১. জরুরি ভিত্তিতে হাওরাঞ্চলে পর্যাপ্ত সংখ্যক কম্বাইন হারভেস্টার সরবরাহ এবং ধান কাটার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিক নিশ্চিত করা।
২. ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৩. ফসল রক্ষা বাঁধসমূহ দ্রুত মেরামত ও শক্তিশালীকরণ, পাশাপাশি কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গ্রহণ।
৪. সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম দ্রুত শুরু করে কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা।
হাওর অঞ্চলের কৃষকরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাদের এই দুর্দিনে সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বিলম্ব হলে তা জাতীয় খাদ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতির ওপর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক