তারেক রহমানের অপেক্ষায় বাংলাদেশ চেয়ে আছে : আমীর খসরু
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘গণতন্ত্রের টর্চ বেয়ারার’ হিসেবে অভিহিতি করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এখন তার অপেক্ষায় বাংলাদেশ চেয়ে আছে। তারেক রহমান ডিসেম্বরের ২৫ তারিখে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশে ফিরে আসবেন। এটা আমাদের জন্য আনন্দের সংবাদ।
আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় আমীর খসরু এই কথা বলেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির দেশ গড়ার, আগামীর দেশ গড়ার যে প্রত্যায়, যে রূপরেখা, যে স্বপ্ন আমাদের নেতা তারেক রহমান নিয়েছেন সেটার অংশ হিসেবে আজকের এই দেশ গড়ার কর্মসূচি। আমরা সবাই আনন্দিত যে, আগামী ২৫ তারিখে বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা তারেক রহমানের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। যার নেতৃত্বে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলনে আমরা সফল হয়েছি, সেই আন্দোলনের নায়ক, গণতন্ত্রের টর্চ বেয়ারার জনাব তারেক রহমান বাংলাদেশে ইনশাআল্লাহ ফিরে আসবেন।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা হাদির ওপর গুলিবর্ষণের প্রসঙ্গ টেনে আমীর খসরু বলেন, এটা খুবই দূঃখজনক। চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতির ওপরও আক্রমণ হয়েছে। গতকাল আরেকটি ঘটনা ঘটেছে। এই সময়টাতে স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন বিএনপি বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি নতুন স্বপ্ন দেখছে, বাংলাদেশের মানুষ বিগত ১৭ বছর নিপীড়ন- নির্যাতন ভোগ করেছে… ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের মানুষের মনোজগতে যে পরিবর্তন আসছে, সেই পরিবর্তনকে মাথায় রেখে বিএনপি একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ার জন্যে, একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার জন্য, যে রাজনীতি করে তারেক রহমান সেটি ধারণ করেছেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি এর বিপরীতে একটি রাজনীতি। সেটা হচ্ছে মবক্রেসির রাজনীতি, গায়ের জোরের রাজনীতি, অপরের প্রতি অসন্মান রেখে কথা বলার রাজনীতি, অন্যকে ছোট করার রাজনীতি। যেকোনো অজুহাতে অস্থিতিশীলতার রাজনীতি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য কাম্য হতে পারে না। এব্যাপারে বিএনপির নেতাকর্মীদের ‘চোখ-কান খোলা রাখার’ আহ্বান জানান আমীর খসরু।
আমীর খসরু বলেন, আমাদের নেতা ২৫ তারিখে আসছেন। সেই দিন থেকে বাংলাদেশের রাজনীতির গণতান্ত্রিক অঙ্গনে এক নতুন জোয়ার সৃষ্টি হবে ইনশাআল্লাহ। আপনাদের সবাইকে সেই দিনের জন্য, নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
আমীর খসরু আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচন শুধু বিএনপির জয় নয়, এটি হবে গণতন্ত্রের জয়। বিএনপি গণতন্ত্রের টর্চবাহক—এই দায়িত্ব আমাদের পালন করতে হবে।
দেশ পরিচালনার ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, গণতন্ত্রের সুফল ও অর্থনৈতিক সুফল দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ক্ষমতায় গেলে প্রথম দিন থেকেই আমাদের কাজ শুরু হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, উন্নয়নের নামে মেগা প্রকল্প নয়, বরং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগই হবে বিএনপির অগ্রাধিকার। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সারা দেশের থেকে বিএনপির নেতৃবৃন্দ এই কর্মশালায় অংশ নেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক