প্রতিদিন ২০ লাখ টাকার বেগুন বিক্রি হয় চর তিল্লীতে
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লী ইউনিয়নের চর তিল্লী বাজার এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ বেগুনের পাইকারি বিপণন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় এই বাজারের কর্মব্যস্ততা। দুপুরের মধ্যেই প্রতিদিন এখানে আড়াই থেকে তিন হাজার মণ বেগুন কেনাবেচা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা।
সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ জেলার মধ্যে বেগুন উৎপাদনে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে এই উপজেলা। গত মৌসুমে এখানে ৩৫০ হেক্টর জমিতে বেগুনের আবাদ হলেও চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪৯ হেক্টরে। অর্থাৎ এক বছরেই আবাদ বেড়েছে ১০১ হেক্টর। বিশেষ করে ‘পার্পল কিং’ জাতের বেগুন উৎপাদনে এখানকার কৃষকেরা অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন। বর্তমানে উপজেলার চর তিল্লী, পাড় তিল্লী, দড়গ্রাম, গোপালপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ২ হাজার ৭০০ কৃষক সরাসরি বেগুন চাষের সঙ্গে যুক্ত।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সরেজমিনে চর তিল্লী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকদের আনা বেগুনের স্তূপ থেকে পাইকাররা দরদাম করে ট্রাকবোঝাই করছেন। স্থানীয়দের মতে, বছরের প্রায় ছয় থেকে সাত মাস এই বাজারে বেগুনই প্রধান বাণিজ্যিক পণ্য। শুধু এই একটি বাজার থেকেই প্রতি মাসে আনুমানিক ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার বেগুন বিক্রি হচ্ছে, যা এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।
দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বেগুন চাষ করছেন তোফাজ্জল মিয়া। তিনি জানান, বর্তমানে প্রতি মণ বেগুন পাইকারি ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন চাষ করেই তিনি ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন।
একুশে মোড় এলাকার কৃষক জয়নাল হোসেন জানান, তিন বিঘা জমিতে আবাদ করে তিনি ইতোমধ্যে এক লাখ টাকার বেগুন বিক্রি করেছেন। চারা ও সারের দাম বাড়লেও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট।
পাইকারি ক্রেতা ফয়সাল ব্যাপারি জানান, এখানকার বেগুনের মান উন্নত হওয়ায় ঢাকার কারওয়ান বাজার, মিরপুর ও যাত্রাবাড়ীর পাশাপাশি রংপুর, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তিনি একাই প্রতিদিন ৭-৮ লাখ টাকার বেগুন কিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করেন।
কুড়িগ্রামের চিলমারী থেকে আসা শ্রমিক জব্বার মিয়া জানান, প্রতি বছর বেগুনের মৌসুমে তারা কাজের সন্ধানে এখানে আসেন। দৈনিক ৪০০ টাকা মজুরিতে কাজ করে অর্জিত আয় দিয়ে তারা সারা বছরের পারিবারিক খরচ জোগান।
সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম বলেন, সাটুরিয়ায় সবজির উৎপাদন বরাবরই ভালো, তবে চলতি মৌসুমে বেগুনের আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কৃষকেরা ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।

রানা মাহবুব, মানিকগঞ্জ (সাটুরিয়া-ঘিওর)