দেশে ফেরার একদিন পরই ভোটার হচ্ছেন তারেক রহমান
চারিদিকে নির্বাচন নির্বাচন রব। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে ফেরার একদিন পরই ভোটার হিসেবে নিজের নাম নিবন্ধন করবেন তিনি। কারণ, নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে তাকে অবশ্যই ভোটার হতে হবে। সে লক্ষ্যে দলের পক্ষ থেকে প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, ২৫ তারিখ হচ্ছে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার হচ্ছে ২৬ তারিখ। শনিবার ২৭ তারিখ, নির্বাচনকালীন এই সময় নির্বাচন কমিশনের অফিস সব খোলা থাকে। সেদিনই (২৭ ডিসেম্বর) ভোটার আইডি বা ন্যাশনাল আইডি হওয়া সংক্রান্ত যা কিছু আছে তিনি (তারেক রহমান) করবেন।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, সংবিধান ও ভোটার তালিকা আইনে ভোটার হওয়ার এবং প্রার্থী হওয়ার যে যোগ্যতা-অযোগ্যতার কথা বলা আছে, সেগুলো লঙ্ঘন না হলে তারেক রহমানের ভোটার বা প্রার্থী হওয়ায় কোনো বাধা নেই। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলে তাকে ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটার হতে হবে। একইসঙ্গে দাখিল করতে হবে মনোনয়নপত্র।
ইসি সূত্র বলছে, তফসিল ঘোষণা হলেও কমিশন যোগ্য যেকোনো নাগরিককে আইনের বিধান লঙ্ঘন না করলে ভোটার করে নিতে পারে। চাইলে তারেক রহমান লন্ডন থেকেই ভোটার হতে পারবেন। সেখানে দূতাবাসের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইসি। বিদেশে বসে তার ভোটার হতে কোনো সমস্যাই নেই। আর দেশে আসার পর আরও সুবিধা।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফসিল অনুযায়ী, ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। তারেক রহমান যদি প্রার্থী হতে চান, তাকে এর মধ্যেই মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কেউ সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হতে চাইলে মনোনয়নপত্র নিজে অথবা প্রস্তাবক বা সমর্থকের মাধ্যমে স্বাক্ষর করে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে পারবেন। এজন্য দেশে থাকতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে প্রার্থী হওয়ার কিছু যোগ্যতা-অযোগ্যতা রয়েছে। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ১ ও ২ দফায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হলে এবং বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য।
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার দাবি করেছিল, তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। তৎকালীন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম দাবি করেন, তারেক রহমান পাসপোর্ট জমা দিয়ে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব নিয়েছেন। তবে ২০১৮ সালে বিএনপি বিষয়টি পরিষ্কার করে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশে সরকার (তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার) তার বিরুদ্ধে যেভাবে মামলা-মোকদ্দমা এবং বিনা বিচারে সাজা দিচ্ছে সে কারণে তিনি অ্যাসাইলাম (রাজনৈতিক আশ্রয়) চেয়েছেন এবং তাকে সেটা দেওয়া হয়েছে। অ্যাসাইলামের সময় নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্ট জমা দিতে হয়। ২০১২ সালে তারেক রহমান রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন এবং এক বছরের মধ্যেই তা গৃহীত হয়।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আইন অনুযায়ী কমিশন চাইলে তফসিল ঘোষণার পরও যে কাউকে ভোটার করে নিতে পারেন। এই এখতিয়ার আইন কমিশনকে দিয়েছে। কাজেই তারেক রহমানের ভোটার হতে কোনো বাধা নেই। নির্বাচনে কেউ প্রার্থী হতে চাইলে অবশ্যই মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনের মধ্যে ভোটার হতে হবে। কেননা, ভোটার না হলে প্রার্থী হতে কেউ পারবেন না। বাংলাদেশের যেকোনো এলাকার ভোটার যেকোনো আসনে প্রার্থী হতে পারেন, যদি তিনি যোগ্যতা না হারান।

নিজস্ব প্রতিবেদক