অভ্যুত্থানের কারিগরদের নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি ‘এনসিপি’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধীরে ধীরে শক্ত অবস্থান করে নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ইতোমধ্যেই দলটি জামায়াতসহ আট দলের জোটে যোগ দিয়ে রাজনীতির মাঠে ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠেছে।
পুরোনো দ্বিদলীয় বৃত্ত ভেঙে ‘নয়া রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’ ও ‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেছিল দলটি। প্রতিষ্ঠার এক বছর না পেরোলেও আলোচনা-সমালোচনায় স্থান পাচ্ছে দলটি।
দেশের প্রতিটি উপজেলায় এখনো না পৌঁছালেও মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে এনসিপির নাম। চলুন দেখে নেই প্রতিষ্ঠার প্রথম বছরে কেমন ছিল এনসিপির পথচলা–
দলের আত্মপ্রকাশ
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণে এবং অভ্যুত্থানের স্পিরিটকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় রূপ দিতে গঠন করা হয় এনসিপি। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের প্রধান কারিগর নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহদের নেতৃত্বে গঠিত এই দলটি প্রচলিত ‘পারিবারিক ও দলান্ধ’ রাজনীতির বিপরীতে এক ‘নয়া রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’ গড়ার ডাক দেয়।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি। দলটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন আখতার হোসেন। দলটির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, গত ৫৩ বছরের রাজনৈতিক ব্যর্থতা মুছে ফেলে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে একটি ‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’ গঠন করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
জুলাই পদযাত্রা
জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে তৃণমূল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এবং শহীদদের স্মৃতি অম্লান রাখতে ২০২৫ সালের জুলাই মাসব্যাপী দেশজুড়ে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ করে এনসিপি। যা মাসের ১ তারিখে রংপুরের পীরগঞ্জে গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে শুরু হয়। পদযাত্রাটি ৩০ জুলাই রাজধানী ঢাকায় এসে সমাপ্ত হয়। ৬৪টি জেলায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে অভাবনীয় জনস্রোত লক্ষ্য করা গেছে, যা দলটিকে দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর কাতারে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জুলাই পদযাত্রায় এনসিপি তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দেয়। এর মধ্যে রয়েছে শহীদ ও আহত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ, তৃণমূলের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ঢাকার বাইরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দলটির শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলা।
জুলাই পদযাত্রার মধ্যে রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমান দুর্ঘটনা ঘটায় ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার পদযাত্রা কর্মসূচি স্থগিত করে। পরবর্তীতে অবশ্য এই তিন জেলায় আর পদযাত্রা কর্মসূচি করেনি তারা। বিপরীতে নোয়াখালী জেলা মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
গোপালগঞ্জে নেতাদের ওপর হামলা
এনসিপির মাসব্যাপী জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলতি বছরের ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জ জেলা শহরে সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। সেদিন সকাল থেকেই এই সমাবেশকে ঘিরে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। এরপর বেলা পৌনে দুইটার দিকে প্রথম দফায় প্রায় ২০০-৩০০ জনের একটি সশস্ত্র দল ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে সমাবেশের নির্ধারিত স্থান পৌর পার্কে হামলা চালায়। তারা মঞ্চের চেয়ার ভাঙচুর করে এবং ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে।
এ ঘটনার প্রায় আধাঘণ্টা পর বেলা সোয়া দুইটার দিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম মঞ্চে উপস্থিত হন এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
সমাবেশ শেষে তিনটার দিকে এনসিপির নেতাকর্মীরা যখন মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়, তখন শহরের এসকে সালেহিয়া মাদ্রাসার কাছে এবং লঞ্চঘাট এলাকায় তাদের গাড়ি বহরে অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
হামলাকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িতে হামলা করে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করলে হামলাকারীরা তাদের ওপরও চড়াও হয়। পুলিশের একটি ভ্যানে আগুন দেওয়া হয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।
এই সংঘর্ষে চারজন তাৎক্ষণিকভাবে এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনসহ মোট ৫ জন নিহত হন। এছাড়াও এনসিপির অসংখ্য নেতাকর্মী ও নয়জন পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক মানুষ আহত হন।
পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘেরাও করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। পরবর্তীতে তাদের একটি সামরিক সাঁজোয়া যানে করে গোপালগঞ্জ সার্কিট হাউসে নেওয়া হয় এবং রাতে কড়া পাহারায় খুলনায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পরপরই গোপালগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা এবং পরবর্তীতে কয়েক দফায় কারফিউ জারি করা হয়। পরে এনসিপি সারা দেশে বিক্ষোভ ও ‘ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করে। নাহিদ ইসলাম এই হামলাকে ‘ফ্যাসিবাদী ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দেন।
ঐতিহাসিক ২৪ দফা ইশতেহার
জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩ আগস্ট রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে আয়োজিত এক সমাবেশে দলটির পক্ষ থেকে ঐতিহাসিক ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করে। দলটির নেতারা একে কেবল একটি ইশতেহার নয় বরং বৈষম্যহীন ‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার এক পূর্ণাঙ্গ মহাসনদ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এদিন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই ইশতেহার পাঠ করে বলেন, আমরা গত ৫৩ বছরের পুরোনো ও পঁচা রাজনৈতিক ব্যবস্থার কবর দিয়ে এমন এক নয়া রাজনৈতিক বন্দোবস্ত করতে চাই, যেখানে কোনো ব্যক্তি বা দল আর স্বৈরাচার হয়ে উঠতে পারবে না। ২৪ দফার প্রধান পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো-
রাষ্ট্র সংস্কার ও শাসনব্যবস্থা
১. নতুন সংবিধান: বর্তমান ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার বিলোপ ঘটিয়ে গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন ও গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করা।
২. ক্ষমতার ভারসাম্য: রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করা এবং একজনের হাতে সব ক্ষমতার কেন্দ্রিকতা বন্ধ করা।
৩. দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ: আইনসভায় বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের অংশগ্রহণের জন্য উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা চালু।
৪. বিচারবিভাগীয় স্বাধীনতা: বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দেওয়া এবং বিচারক নিয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধে স্বাধীন কমিশন গঠন।
জুলাই বিপ্লব ও বিচার নিশ্চিতকরণ
৫. জুলাই গণহত্যার বিচার: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ঘটা গণহত্যার আন্তর্জাতিক মানের বিচার এবং শহীদ ও আহত পরিবারকে আজীবন রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা দেওয়া।
৬. জুলাই সনদের স্বীকৃতি: জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া।
৭. গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার: গত ১৫ বছরে হওয়া সকল গুম, খুন এবং বিডিআর হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও পুনঃতদন্ত নিশ্চিত করা।
রাজনীতি ও প্রশাসন
৮. পুলিশি সংস্কার: পুলিশকে দলীয় বাহিনী হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করা এবং তাদের জন্য স্বাধীন ‘পুলিশ কমিশন’ গঠন করা।
৯. দুর্নীতি দমন: দুদককে স্বাধীন করা এবং সরকারি আমলা ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা।
১০. স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় সরকারকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা।
১১. নির্বাচন কমিশন: নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও মেরুদণ্ডসম্পন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা।
অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান
১২. মানব উন্নয়নভিত্তিক অর্থনীতি: কেবল জিডিপি নয়, বরং সুষম বণ্টন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এমন অর্থনৈতিক মডেল অনুসরণ।
১৩. অর্থ পাচার রোধ: গত ১৫ বছরে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
১৪. বেকারত্ব দূরীকরণ: ‘বেকার ভাতা’ চালু করা এবং প্রতি বছর নির্দিষ্ট কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
১৫. কৃষি ও শিল্প: কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ও টেকসই শিল্পায়ন।
সমাজ ও শিক্ষা
১৬. সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা: প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য ডেটাবেজ তৈরি এবং মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা।
১৭. শিক্ষার আধুনিকায়ন: বৈষম্যহীন ও বিজ্ঞানভিত্তিক নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন।
১৮. নারীর অধিকার: বাল্যবিবাহ ও যৌতুক বন্ধ এবং নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।
১৯. সংখ্যালঘু সুরক্ষা: ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং পাহাড়ের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
২০. প্রাকৃতিক সম্পদ: জাতীয় প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জনগণের সার্বভৌম মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা।
প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি
২১. মর্যাদাপূর্ণ কূটনীতি: জাতীয় স্বার্থ বজায় রেখে সকল দেশের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ বৈদেশিক সম্পর্ক। ২২. সীমান্ত হত্যা বন্ধ: সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা বন্ধে কার্যকর কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণ।
২৩. রোহিঙ্গা সংকট: দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। ২৪. প্রতিরক্ষা বাহিনী: সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকায়ন এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পেশাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা।
নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন
প্রতিষ্ঠার মাত্র সাত মাসের মাথায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন পায় এনসিপি। এর জন্য অবশ্য তাদের দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এনসিপিকে রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রাথমিক নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় ইসি। পরবর্তীতে গত ১৭ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন এক গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এনসিপিকে দেশের ৫৯তম নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
শাপলা কলি প্রতীক
দেশের ৫৯তম নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে ১৭ নভেম্বর নিবন্ধন পায় এনসিপি। দলটিকে নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয় ‘শাপলা কলি’। এনসিপির প্রতীকের এই যাত্রাটি ছিল বেশ ঘটনাবহুল। দলটির পক্ষ থেকে শুরু থেকেই বাংলাদেশের জাতীয় ফুল ‘শাপলা’ প্রতীকের জন্য জোরালো দাবি জানানো হয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশন আইনি কারণ দেখিয়ে শাপলা প্রতীক দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
ইসি জানায় যেহেতু ‘শাপলা’ জাতীয় প্রতীক, তাই এটি কোনো একক দলকে বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই। তাই সংস্থাটি তাদের ইসির তালিকাভুক্ত ১১৯টি প্রতীক থেকে একটি বেছে নিতে বলে। কিন্তু এনসিপি তাদের দাবিতে অনড় থাকে এবং প্রয়োজনে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেয়।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক সমঝোতা ও আইনি পর্যালোচনার পর ইসি তাদের প্রতীকের তালিকায় নতুনভাবে ‘শাপলা কলি’ অন্তর্ভুক্ত করে। এনসিপির নীতিনির্ধারকরাও শেষ পর্যন্ত জাতীয় স্বার্থ ও আইনি বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে ‘শাপলা কলি’ গ্রহণ করতে সম্মত হন।
ত্রয়োদশ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রার্থী ঘোষণা
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আসন্ন এই নির্বাচনকে ঘিরে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটির নেতা কর্মীরা। নির্বাচনের জন্য তারা গত ১০ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ১২৫টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে। শিগ্গিরই দ্বিতীয় দাফে প্রার্থীদের নাম ঘোষণার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত সেটি দেখা যায়নি।
এনসিপিসহ তিন দলের ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’
জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখা এবং রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকারে আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টি ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নিয়ে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ নামে একটি জোট ঘটন করে এনসিপি।
অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও জোটের রাজনীতি
বছরের শেষের দিকে এসে এনসিপির ভেতরে আদর্শগত দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠেছে। দলটির একটি অংশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কৌশলগত ঐক্যের পক্ষে থাকলেও অন্য একটি অংশ বিএনপির সঙ্গে আলোচনার পক্ষে অবস্থান নেয়। গুঞ্জন উঠেছে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতায় যাচ্ছে তারা। এখানে ৩০টির মতো আসন সমঝোতা হতে পারে। জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ায় কেউ কেউ পদত্যাগ করেছেন।
এদিকে দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা স্বতন্ত্র পার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। তিনি জানান তিনি স্বতন্ত্রভাবে ঢাকা-৯ আসন থেকে নির্বাচন করবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক