বৃষ্টির মতো ঝরছে শিশির, হাড়কাঁপানো শীতে স্থবির দিনাজপুর
উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা দিনাজপুরে দিন দিন শীতের তীব্রতা বাড়ছে। ডিসেম্বরের শেষ প্রান্তে এসে কনকনে ঠান্ডা, হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার সঙ্গে বৃষ্টির মতো ঝরে পড়া শিশির জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। পৌষের মাঝামাঝিতে জেঁকে বসা এই শীতের দাপটে কুয়াশার ঘনত্ব বাড়ায় ঠান্ডার অনুভূতি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর হওয়ার আগেই দিনাজপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায়। যার সঙ্গে যোগ হয় হাড়কাঁপানো শীত। তীব্র ঠান্ডার কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। ফলে স্বাভাবিক জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সড়ক ও হাটবাজারগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ছিল গত কয়েকদিনের তুলনায় অনেক কম।
বিশেষ করে খানসামা ও বীরগঞ্জ উপজেলায় শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। ভোরের কনকনে ঠান্ডায় দিনমজুর ও রিকশাচালকসহ নিম্নআয়ের মানুষ কাজে বের হতে না পারায় তাদের দৈনন্দিন আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের বাসিন্দা হাসান বলেন, ঠান্ডায় যেন শরীর জমে যাচ্ছে। ঘর থেকে বের হওয়া মুশকিল। আমাদের এলাকায় এমন তীব্র শীত আগে কখনও অনুভব করিনি।
দিনমজুর মনোয়ার জানান, পেটের তাগিদে বাধ্য হয়েই এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে কাজে বের হতে হয়েছে তাদের।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৪ শতাংশ, যা ঠান্ডার তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে সেটিকে শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়। বর্তমানে কাগজে-কলমে শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়েও বেশি কষ্টকর। সাধারণত শৈত্যপ্রবাহের সময় রাতের একটি স্বল্প সময় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে থাকে এবং পরে তা বাড়তে শুরু করে। কিন্তু বর্তমানে দিন ও রাতের পুরো সময়জুড়েই তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে। টানা তিন দিন ধরে এই অবস্থা অব্যাহত থাকায় এবং সঙ্গে হিমেল বাতাস ও উচ্চ আর্দ্রতা যোগ হওয়ায় জনজীবনে অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)