জাতীয় পতাকায় মোড়ানো গাড়িতে খালেদা জিয়ার অন্তিম যাত্রা
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রাজনীতিতে যোগ দিয়ে দীর্ঘ চার দশক দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবেসে তাদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন তিনি। দেশের রাজনীতির সেই ধ্রুবতারা, আপসহীন নেত্রীর নিথর মরদেহ অন্তিম যাত্রায় জাতীয় পতাকায় মোড়ানো গাড়িতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে মানিক মিয়া এভিনিউতে নেওয়া হচ্ছে।
আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে মানিক মিয়া এভিনিউতে জানাজা শেষে স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন খালেদা জিয়া।
আরও পড়ুন : মায়ের পাশে দোয়ারত তারেক রহমান
সকাল ৯টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা মোড়ানো ফ্রিজারভ্যানে অন্তিম যাত্রা শুরু হয় তিনবারের এই প্রধানমন্ত্রীর। মরদেহ প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গুলশানের বাসভবনে।
বিএনপির মিডিয়া সেল সূত্রে জানা যায়, এই বাসভবনেই পরিবারের নিকটাত্মীয় ও স্বজনরা খালেদা জিয়াকে শেষবারের মতো দেখেন ও শ্রদ্ধা জানান। বাসভবন থেকে মরহুমার কফিন নেওয়া হচ্ছে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। দুপুর ২টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন এলাকায় তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে, যেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে।
খালেদা জিয়ার শেষ যাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ডিএমপির পক্ষ থেকে বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা ও রুট ম্যাপ জারি করা হয়েছে। আজ বুধবার সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে।
আরও পড়ুন : আপসহীন নক্ষত্রের বিদায়
প্রিয় নেত্রীর শেষ জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মী এরই মধ্যে সংসদ ভবন এলাকায় সমবেত হতে শুরু করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই আপোসহীন নেত্রী।

নিজস্ব প্রতিবেদক