খালেদা জিয়ার রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারবে না : মহিউদ্দিন আহমদ
লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমরা খালেদা জিয়াকে কীভাবে মনে রাখব। আমরা যদি উনার জীবনকে তিন ভাগে ভাগ করতে পারি। প্রথমভাগে তার উত্থান পর্ব, ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত। যেখানে তিনি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটি বিপর্যস্ত দলকে পুনর্গঠন করেন এবং নেতা হয়ে ওঠেন। দ্বিতীয় পর্বটি হচ্ছে তাঁর সরকার পরিচালনায় ১৯৯১ সাল থেকে দুই মেয়াদে এবং এক মেয়াদে বিরোধী দলীয় নেতা। রাষ্ট্রপরিচালনা করতে গেলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সেখানে অনেক ভালো কাজ হয়, তার প্রশংসা হয়। অনেক খারাপ কাজ হয় তার সমালোচনা হয়, এটা নিয়ে সরকার। তারপরে ২০০৭ সাল থেকে দেখি তাঁর আরেকটা পর্ব যেখানে তার লড়াই সংগ্রাম এবং তাঁকে যে ভিকটিমাইজ করা হয় নানানভাবে সে পর্বটা। আমার কাছে মনে হয় তার যে প্রথম দিকের উত্থান পর্ব সেটা সবাই জানেন আপসহীন নেত্রী। এই উপাধি তার ভাগ্যে জুটেছিল প্রথম পর্বে। শেষ পর্ব তার মৃত্যুর পরে প্রমাণিত হলো। তার কথা সবাই স্মরণ রাখবে। দুটা অর্জন আমরা বলতে পারি এটা একটা রেকর্ড। এই রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারবে না।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক সমাজের শোকসভায় আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) মহিউদ্দিন আহমদ এ কথা বলেন। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিওতে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিকেল তিনটার দিকে কোরান তেলাওয়াতের মাধ্যমে এ শোকসভা শুরু হয়।
মহিউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পরে দ্রুত সময়ে নির্বাহী ক্ষমতা পেয়েছেন। ৮-৯ বছরের মাথায় এটা একটা রেকর্ড। আমি বলবো তার চরিত্রের প্রধান বিষয় আকর্ষণ করে তা হলো এলিগেন্স। তাঁকে সম্মান করতে হয়। এই এলিগেন্স আমাদের রাজনীতির মধ্য নাই।
মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা বলি ক্রিকেট হচ্ছে ভদ্রলোকের খেলা। কিন্তু রাজনীতি কেন ভদ্রলোকের খেলা হবে না? এটা কেন দুর্বৃত্তদের হাতে চলে যাবে ? ২৪ এর ৭ আগস্ট খালেদা জিয়া শেষ বক্তব্যে বলেছিলেন, আমাদের প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আমরা চোখের বদলে চোখ নাকের বদলে নাক, জানের বদলে জান এভাবে তো কয়েক দশক পার করছি। এইভাবে তো আমরা সামনে এগোতে পারবো না। আমরা যদি হাততালি পাওয়ার জন্য গালাগালি করি এবং খারাপ রাজনীতির দিকে চলে যাই; সেটা সাময়িক হাততালি হয়তো আমরা পাব। কিন্তু রাজনীতি আমরা আল্টিমেটলি বখাটেদের হাতে ছেড়ে দিচ্ছি।
শোকসভায় আরও উপস্থিত আছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, তারেক রহমানের সবধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, তারেক রহমানের একমাত্র মেয়ে ব্যারিস্টার জায়মা রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন।

নিজস্ব প্রতিবেদক