‘খালেদা জিয়া আমাদের সঙ্গে ছিলেন, আমরাও আজ তার সঙ্গে’
ময়মনসিংহ থেকে সংসদ ভবন এলাকায় এসেছেন জহির হোসেন। তিনি বলছিলেন, খালেদা জিয়ার সুযোগ ছিল দেশ ছেড়ে বাইরে চলে যাওয়ার। কিন্তু তিনি যাননি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে উনি আমাদের সঙ্গে থেকে গেলেন।
আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সংসদ ভবন এলাকায় কথা হয় জহির হোসেনের সঙ্গে। তিনি আরও বলেন, শেষ পর্যন্ত দেশের প্রশ্নে আপস না করে ম্যাডাম মারা গেলেন। তিনি আমাদের সঙ্গে ছিলেন, তাই আমরাও আজ তার সঙ্গে আছি। তার প্রতি দোয়া করতে ও শ্রদ্ধা জানাতে এখানে চলে এলাম।
আরও পড়ুন : আপসহীন নক্ষত্রের বিদায়
শরিফুল ইসলাম এসেছেন যশোর থেকে। তিনি বলছিলেন, ম্যাডাম ছিলেন আপসহীন। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যরকম চরিত্র। আমরা কখনোই তাকে ভুলব না। তিনি ছিলেন আমাদের প্রেরণা। সেজন্য, গতকাল রাতেই রওনা দিয়েছি ঢাকার উদ্দেশে। আজ এখানে না থাকতে পারলে খুবই খারাপ লাগতো। তাই চলে এলাম।
রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ের সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। সে লক্ষে সারা দেশ থেকে বিএনপির নেতাকর্মীসহ খালেদা জিয়ার শুভাকাঙ্ক্ষীরা বাস, ট্রেন ও ব্যক্তিগত যানবাহনে চড়ে অনেকে জানাজাস্থলে উপস্থিত হতে এসেছেন। সকাল থেকেই এখানে মানুষজন জড়ো হতে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাখো মানুষে ভরে ওঠে সংসদ ভবন এলাকা। সময় যত গড়াচ্ছে, তত মানুষ বাড়ছে।
বরিশাল থেকে এসেছেন যুবদলকর্মী আব্দুল হাকিম। তিনি বলেন, জীবনটাই খালেদা জিয়ার নামে স্লোগান দিতে দিতে কাটিয়ে দিলাম। অথচ, আজ সেই প্রিয় নেত্রী আমাদের মাঝে নেই। গতকাল থেকে বারবার মনে হচ্ছে, বাংলাদেশ তার অভিভাবক হারাল।
আরও পড়ুন : মায়ের পাশে দোয়ারত তারেক রহমান
নারায়ণগঞ্জ থেকে ফারজানা আক্তারসহ কয়েকজন নারী এসেছেন সংসদ ভবন এলাকায়। ভোরেই তারা এখানে এসে পৌঁছেছেন। ফারজানা বলছিলেন, আজ দুহাত তুলে প্রার্থনা আল্লাহর কাছে, যেন ম্যাডামকে পরকালে ভালো রাখেন। এমন একজন মানুষকে আমরা হারালাম, যার মতো কাউকে আর কখনো পাব না আমরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক