যতদিন ফ্যাসিবাদের অস্তিত্ব থাকবে, ততদিন আমাদের লড়াই চলবে : গোলাম পরওয়ার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আমাদের লড়াই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে। এই ফ্যাসিবাদ পুরাতন হোক আর নতুন, আমাদের লড়াই চলবে। যতদিন ফ্যাসিবাদের অস্তিত্ব থাকবে, ততদিন আমাদের লড়াই চলবে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার লাইন বিল পাবলা পূজা মন্দিরে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সদস্য সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি বলেন, এবার আর যেনতেন নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না। ১৪, ১৮ ও ২৪ মার্কা নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। যারা এ ধরনের অপকর্মের চিন্তা করবে তাদের জন্য আমাদের স্পষ্ট বার্তা মানুষ রক্ত দিয়ে পরিবর্তন এনেছে। আবার প্রয়োজনে রক্তের বিনিময়ে পরিবর্তনকে সফল করবো, ইনশাআল্লাহ। এক্ষেত্রে এ জাতি কাউকে ছাড় দেয়নি, আমরাও দেবো না। ছাত্র-জনতা অতীতে যেমন বুক চিতিয়ে লড়াই করে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য এগিয়ে গিয়েছিল, আগামীতেও সেই অধিকার আদায়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আরও বলেন, আমাদের লড়াই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে। এই ফ্যাসিবাদ পুরাতন হোক আর নতুন, আমাদের লড়াই চলবে। যতদিন ফ্যাসিবাদের অস্তিত্ব থাকবে, ততদিন আমাদের লড়াই চলবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরোয়ার স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, কিশোর, তরুণ ও যুবক, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এমন এক দেশ রেখে যেতে চাই-যেন শান্তিতে তারা নিশ্বাস নিতে পারে। চাঁদাবাজমুক্ত, দখলবাজমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসনের বিকল্প নেই। আমরা সকলকে আল্লাহর আইনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আগামী নির্বাচনে ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করে সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে বিকেল ৪টায় ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড খামারবাড়ী হিন্দু ধর্মাবলম্বী সদস্য সমাবেশ ওয়ার্ড ইউপি সদস্য রিপন সরকারের সভাপতিত্বে ও আশরাফ হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এখানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, আড়ংঘাটা থানা আমীর মাওলানা মনোয়ার আনসারী, হরিণটানা থানা আমীর মাওলানা আব্দুল গফুর, ১৩নং গুটুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তুহিনুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য নিহির কান্তি সরকার, নারায়ন সরকার, মাস্টার অমল কুমার সরকার প্রমূখ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসলামই একমাত্র সকল জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের নিরাপত্তা এবং অধিকার নিশ্চিত করেছে। জনগণ যদি জামায়াতে ইসলামীর হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয় তাহলে জনগণ একটি ইসলামিক কল্যাণ রাষ্ট্রের সকল সামাজিক, মৌলিক, রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় অধিকার ভোগ করবে। অতীতে এদেশের অমুসলিম সম্প্রদায়ের উপর বিভিন্ন দল মতের লোক বিভিন্ন সময়ে অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছে। তখনই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তার প্রমাণ রয়েছে ডুমুরিয়াবাসীর কাছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিল ডাকাতিয়ার সমস্যা এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি মরণ ফাঁদ হয়ে দেখা দিয়েছে। অতীতে আমার সময়ে খাল খনন, নদী ড্রেজিং করে পানি নিষ্কাশন করা হয়েছিল। আমি প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে বিল ডাকাতিয়ার পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যবস্থা করেছিলাম। আল্লাহর রহমতে আপনারা যদি আমাকে পুনরায় এ অঞ্চলের সেবা করার সুযোগ দেন তাহলে আমি বিল ডাকাতিয়ার পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধানসহ এই অবহেলিত জনপদের বাকি কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
হিন্দু কমিটির সদস্য কুমারেশ কুমার মন্ডলের সভাপতিত্বে ও শ্রীদাম কুমার মন্ডলের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, গুটুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তুহিনুল ইসলাম, হরিণটানা থানা আমীর মাওলানা আব্দুল গফুর, লিটন হোসেন, দিবাশীষ মল্লিক প্রমুখ।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)