যত ষড়যন্ত্র আর পরিকল্পনা হোক গুম-খুনের বিচার হবেই : চিফ প্রসিকিউটর
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, যদি গুম-খুনের অপরাধে একজন মানুষেরও বিচার করতে হয়, সেটা হবে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল হাসান। যত ষড়যন্ত্রই হোক, যত ধরনের পরিকল্পনা হোক, গুম-খুনের বিচার হবেই।
আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) গুমের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির পর প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তাজুল ইসলাম।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-খুনের যে মহাকাব্যিক যাত্রা শুরু হয়েছিল, এরমধ্যে নিষ্ঠুরতম ও কুখ্যাত ব্যক্তি হচ্ছে জিয়াউল আহসান। তার বিরুদ্ধে শত শত মানুষকে গুম ও হত্যার অকাট্য প্রমাণ প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে।
তাজুল ইসলাম বলেন, জাতির স্বার্থে, মানবতার স্বার্থে এই নিষ্ঠুরতম খুনির বিচার করতে হবে। তা না হলে মানবতা ভূলুণ্ঠিত হবে। রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের অনাস্থা তৈরি হবে।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা বুঝতে পারছি, আসামিপক্ষ নানা ধরনের পরিকল্পনা মাধ্যমে বিচারকে পিছিয়ে দেওয়ার, বিচারটা যাতে না হয় সেই ধরনের চেষ্টা করবেন। কিন্তু আইনের হাত অনেক লম্বা। ন্যায়বিচারের ব্যাপারে রাষ্ট্র দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, প্রসিকিউশন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আদালত ন্যায়বিচার করার ব্যাপারে দায়বদ্ধ। সুতরাং এই বিচার অবশ্যই হবে এবং ন্যায় বিচার হবে।
চিফ প্রসিকিউটর জিয়াউলের বিরুদ্ধে গুম-খুনের তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন। প্র
প্রথম অভিযোগ বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে র্যাব সদর দপ্তর থেকে অবৈধভাবে আটক সজলসহ তিনজন বন্দিকে নিয়ে জিয়াউল ও তার দল গাজীপুরের দিকে রওনা হন। ঢাকা বাইপাস সড়কে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে পর্যায়ক্রমে বন্দিদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগ বলা হয়, বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী এলাকা ও বলেশ্বর নদীর মোহনা ছিল জিয়াউল আহসানের পরিচালিত হত্যাকাণ্ডের অন্যতম ‘হটস্পট। গভীর রাতে বন্দিদের ট্রলার বা নৌকায় করে নদীর মাঝখানে নিয়ে মাথা বা বুকে বালিশ চেপে গুলি করা হতো। পরে পেট কেটে সিমেন্টের ব্লক বেঁধে লাশ পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হতো। এই পদ্ধতিকে ‘গেস্টাপো’ বা ‘গলফ’ কোডনামে পরিচালনা করা হতো বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। এভাবে সাবেক বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলাম মল্লিক ও আলকাছ মল্লিকসহ কমপক্ষে ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা অভিযান পরিচালনা করা হতো। পূর্বে আটক ও গুম থাকা ব্যক্তিদের বনদস্যু হিসেবে সাজিয়ে গভীর রাতে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ দেখানো হতো। এসব অভিযানে র্যাবের বাছাই করা সদস্যরা অংশ নিত এবং অনেক ক্ষেত্রে জিয়াউল আহসান নিজেই উপস্থিত থাকতেন। এরই ধারাবাহিকতায় ‘অপারেশন নিশানখালী’, ‘অপারেশন মরা ভোলা’ ও ‘অপারেশন কটকা’ নামে তিনটি অভিযানে অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ তুলে ধরার পর চিফ প্রসিকিউটর আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী তার বক্তব্য তুলে ধরতে ট্রাইব্যুনালের কাছে সময়ের আরজি জানান। ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করে শুনানির জন্য আগামী ৮ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক