স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মুছাব্বিরের পেটে, হাতে ও কনুইয়ে ছিদ্র ছিল : চিকিৎসক
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বুধবার রাতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত হয়। ময়নাতদন্ত করেন ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. আয়শা পারভীন।
এদিন মুছাব্বিরের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হায়দার আলী।
প্রতিবেদনের বিষয়ে মো. হায়দার আলী এনটিভি অনলাইনকে বলেন, মুছাব্বিরের পেটের ডান পাশে কোমরের ওপরে আধা ইঞ্চি পরিমাণ ছিদ্র দেখা গেছে। ডান হাতের কনুইয়ের পেছনে একটি ছিদ্র। এগুলো গুলির দ্বারা হয়েছে।
হায়দার আলী আরও বলেন, তার বাম পায়ের হাঁটুতে জখম ছিল। মানুষ পাকা রাস্তায় পড়ে যাওয়ার পর যেমন জখম হয় তেমনই। পড়ে তিনি আবার উঠে দাঁড়ান। আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা মোছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা গেছে।
এদিকে নিহত মোছাব্বিরের বাবার নাম খলিলুর রহমান। তিনি রাজধানীর পশ্চিম কারওয়ান বাজারের বাসা ১৬/সি, গার্ডেন ভিউতে থাকতেন। ২ মেয়ে ও ১ ছেলের জনক তিনি।
এর আগে ঢামেকের মর্গে নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বলেন, কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সেটি নির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না। সিসিটিভি ফুটেজ যেহেতু আছে, কাজেই আশা করি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেগুলো দেখে দ্রুতই ব্যবস্থা নেবে। আর এই রকম ঘটনা তো ঘটতেছে, আগেও ঘটেছে, এখনও ঘটছে, ভবিষ্যতেও ঘটবে। সুষ্ঠু তদন্ত না হলে আমার মতো আরও অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এদিকে দুপুরে আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের নামাজে জানাজা নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করার কথা।
এর আগে সকালে মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। এই মামলায় অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক