শীতে কাঁপছে কুড়িগ্রাম
মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও হিমেল হাওয়ার প্রভাবে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। টানা কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশা ও সূর্যের অনুপস্থিতিতে শীতের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ। পাশাপাশি বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা।
রাজারহাট আবহাওয়া অফিস জানায়, আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় কুড়িগ্রাম জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৯ শতাংশ। গত দুই দিন ধরে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকায় সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। তীব্র ঠান্ডায় কাজে বের হতে না পারায় অনেক দিনমজুরের আয় বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে পরিবার নিয়ে সংকটে দিন কাটছে তাদের।
শীত ও কুয়াশার বিরূপ প্রভাব পড়েছে কৃষিক্ষেত্রেও। বোরো ধানের বীজতলার চারা স্বাভাবিকভাবে বাড়ছে না; অনেক জায়গায় চারা হলুদ ও লালচে রং ধারণ করেছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, টানা শীত ও কুয়াশার কারণে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লা আল মামুন জানান, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। কৃষকদের বীজতলা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সার ও পুষ্টি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, শীতের কারণে জেলায় জ্বর, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়াজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপ্নন কুমার বিশ্বাস জানান, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত অনেকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ গুরুতর অবস্থায় ভর্তি হচ্ছেন।
দুর্ভোগ লাঘবে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং জরুরি সহায়তার জন্য নগদ ৪০ লাখ টাকা মজুত রাখা হয়েছে।
রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, তাপমাত্রা আরও নিম্নগামী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে শীতের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে।

এনামুল হক, কুড়িগ্রাম (সদর-রাজারহাট)