ফুটবল খেলা নিয়ে দুইপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ২০
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কিছু দোকানপাট ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের মধ্যেরচর গ্রামের পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়ার লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে সেলিম মিয়া (৩৫), হজকরুনি (৪৫), জনিয়া বেগম (২৪), ইমন (২২), সাজু (৫৪), শরীফ (২৫), মাহবুব (৩৪), পাবেল (২৬) ও ইকবাল মিয়াকে (৫১) ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় সবুজ মিয়া, সাদ্দাম ও সালমান ফরাজিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধ্যেরচর গ্রামের ঈদগাহ মাঠে স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। গতকাল শুক্রবার বিকেলে ভাটিকৃষ্ণনগর গ্রাম ও মধ্যেরচর গ্রামের মধ্যে সেমিফাইনাল খেলা চলাকালে ভাটিকৃষ্ণনগর পরপর দুটি গোল দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে মাঠেই দুপক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় মাতব্বররা বিষয়টি সামাল দেন।
আজ শনিবার সকালে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বৈঠকে বসলে পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়ার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া এলাকাটিতে পরে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ জানান, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে গতকালের ঘটনার জেরে আজ শনিবার আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব