হাসিনা-কাদের-কামালসহ ১৭১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
ফেনীতে জুলাই আন্দোলনে কলেজছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ ১৭১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের (সদর) বিচারক মোহাম্মদ হাসান চার্জশিট আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন। এর মধ্য দিয়ে ফেনীতে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় ২২টি মামলার মধ্যে প্রথম কোনো মামলার চার্জশিট গ্রহণ করলেন আদালত।
আজ সকালে মামলার নির্ধারিত তারিখে শুনানি শেষে বিচারক আদেশের জন্য অপেক্ষমান রাখেন।
২০২৫ সালের ৩১ জুলাই ১৭১ জনের বিরুদ্ধে ফেনী সদর আমলি আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা বলেন, মামলায় ১৫৬ এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতপরিচয় ৬৫ জনসহ ২২১ জনকে আসামি করা হয়। এরমধ্যে তদন্তে ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা না থাকায় ১০ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ৫১ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় ২২টি মামলা হয়েছে। তারমধ্যে সাতটি হত্যা ও ১৫টি হত্যাচেষ্টা মামলা। এসব মামলায় দুই হাজার ১৯৯ এজাহারনামীয়সহ আরও চার হাজার অজ্ঞাতপরিচয় আসামি রয়েছে। তাদের মধ্যে এক হাজারের বেশি আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১১ আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহির উদ্দিন মামুন বলেন, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে মাসুম হত্যাকাণ্ডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীকে সরাসরি নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মূলত পুলিশের বিভিন্ন তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তাদেরই চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এখানে কে কোন রাজনৈতিক দলের তা বিবেচনা করা হয়নি।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবির অসহযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন কলেজছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ আগস্ট মারা যান তিনি।
মাসুম সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের তরাব পাটোয়ারী বাড়ির মৃত মাওলানা নোমান হাসানের ছেলে। তিনি ছাগলনাইয়া আব্দুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক সম্পন্ন করেন।
এ ঘটনায় ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নিহত মাসুমের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে ১৬২ জনের নাম উল্লেখ, আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
এ মামলায় উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল, দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি দিদারুল কবির রতন, পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল, সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, যুবলীগনেতা সাইফুল ইসলাম পিটু ও জিয়া উদ্দিন বাবলুসহ অন্যান্যরা।

তোফায়েল আহাম্মদ নিলয়, ফেনী