নওগাঁ-৩ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন জনি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর ও বদলগাছী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি আপিলে তার প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। এতে এই আসনে নির্বাচনের মাঠের হিসাব-নিকাশ পুরোপুরি বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। তার বাবা প্রয়াত আখতার হামিদ সিদ্দিকী জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার এবং এই আসন থেকে তিনবার নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন।
এবারের নির্বাচনেও জনি বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফজলে হুদা বাবুলকে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে জনি স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক তালিকায় গরমিল থাকায় গত ৪ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে তিনি নিজের প্রার্থিতা ফিরে পান।
প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি মুঠোফোনে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্যায়ভাবে আমার প্রার্থিতা বাতিল করেছিলেন। প্রতিটি ভোটারের স্বাক্ষরের ভিডিও আমার কাছে ছিল। সত্যের জয় হয়েছে।’
জনির প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার খবরে তার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। ভোটাররা বলছেন, এত দিন এই আসনে লড়াই মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। জনি মাঠে ফেরায় এখন লড়াই হবে ত্রিমুখী।
মহাদেবপুর উপজেলা সদরের বাসিন্দা আহসান হাবীব বলেন, ‘পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় লড়াই দ্বিমুখী ছিল। এখন তিনি ফিরে আসায় ভোটের অঙ্কের হিসাব জটিল হয়ে গেল। লড়াই এখন ত্রিমুখী রূপ নিল।’

আসাদুর রহমান জয়, নওগাঁ