সিলেট ওসমানী হাসপাতালে কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বরত এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে হেনস্তার অভিযোগে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন তারা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) মধ্যরাতে হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এই হেনস্তার ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার রাতে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের এক রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দায়িত্বরত নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে চিকিৎসকের ওপর হামলা চালান। এতে ওই নারী চিকিৎসক আহত হন।
ঘটনার পর হাসপাতালে থাকা অন্যান্য ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এগিয়ে এসে এক নারী ও দুই পুরুষকে আটক করেন। এসময় রোগীর স্বজনদেরও মারধর করেন ইন্টার্নরা। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
আটকরা হলেন সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার খৈতর গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে শিমুল আহমদ (৩৫), একই গ্রামের শিমুল আহমদের স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা (৩২) ও ছাতক থানাধীন দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ মিয়া (৩০)।
এ ঘটনায় মধ্যরাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ওসমানী হাসপাতাল। এরপর রাত ১টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা।
সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাইনুল জাকির জানান, ঘটনার পর পরই পুলিশ নারীসহ তিনজনকে আটক করেছে। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।

সজল ছত্রী, সিলেট