‘২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ধারাবাহিকভাবে দুর্নীতি কমেছে’
২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ধারাবাহিকভাবে দুর্নীতি কমেছে বলে দাবি করেছেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মাহদী আমিন।
মাহদী আমিন বলেন, একটি নির্দিষ্ট দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নতুন করে ফ্যাসিবাদী আমলের পুরোনো মিথ্যা ও প্রতারণামূলক ‘দুর্নীতির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’ বয়ান প্রচারের দায়িত্ব নিয়েছেন। অথচ এটি জাতীয়ভাবে প্রমাণি, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। আপনারা নিশ্চয়ই জেনে থাকবেন, ২০০১ সালের অক্টোবরে বিএনপি যখন সরকার গঠন করে, তখন একটি প্রতিষ্ঠানের সূচকে দূর্নীতিতে বাংলাদেশের স্কোর ছিল শূন্য দশমিক ৪। এটি ছিল ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত শাসনক্ষমতায় থাকা তৎকালীন রাজনৈতিক দলটির দুর্নীতির প্রতিফলন। পরবর্তী সময়ে দূর্নীতির প্রতি বিএনপির জিরো টলারেন্স এবং সুশাসনের ফলে এটি ক্রমশ উন্নত হয়। সর্বশেষ ২০০৬ সালে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব ছাড়ার সময় স্কোর ২ এ উন্নীত হয়। অতএব যে দল ধারাবাহিকভাবে দুর্নীতি দমনে শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছে, এমনকি স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন পর্যন্ত গঠন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে এটি পরিকল্পিত অপপ্রচার।
কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে বিএনপি চেয়ারম্যানের এ উপদেষ্টা বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত উক্ত দলটি নিজেই সরকারের অংশ ছিল। তাদের দুজন মন্ত্রী ও বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য ছিলেন। সরকারে থাকা অবস্থায় তখন এ বিষয়ে আমরা তাদের কোনো মন্তব্য শোনা যায়নি। তবে বর্তমানে তারা নির্বাচনি মাঠে এসে ফ্যাসিবাদী প্রোপাগান্ডার এই ধারাবাহিকতাকে ধরে রেখেছে। আমরা উক্ত দলটির এই ভূমিকাকে রাজনৈতিক দ্বিচারিতা হিসেবে দেখছি।
মাহদী আমিন বলেন, ভোট চাইতে গিয়ে সেই দল ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার, জান্নাতের প্রলোভন, কোরআন শরিফে শপথ করানো, এমনকি বিকাশ নম্বরে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বেড়াচ্ছে। ফলে যারা নিজেরাই টাকা দিয়ে ভোটারদের ভোট কেনার চেষ্টা করে যাচ্ছে, আবার তারাই যখন দুর্নীতির গল্প শোনায়, সেটি তাদের তথাকথিত সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এই মুখপাত্র বলেন, নির্বাচনি জনসভায় একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান বগুড়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন। বাস্তবতা হলো—এই দুটি বিষয় ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অনুমোদিত এবং এ লক্ষ্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কার্যকর রয়েছে। অতএব বিদ্যমান এরকম একটি সিদ্ধান্তকে নতুন প্রতিশ্রুতি হিসেবে উপস্থাপন করে বগুড়াবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন আল আমিন চৌধুরীকে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কারণে একটি দলের নেতাকর্মীদের চাপে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং অবিলম্বে তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি করেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক