ঘন কুয়াশায় হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে দূরপাল্লার যানবাহন
ঠাকুরগাঁওয়ে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ভোর থেকেই জেলার ওপর ঘন কুয়াশার চাদর নেমে আসায় মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। এ অবস্থায় দুর্ঘটনা এড়াতে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে দূরপাল্লার গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন।
আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোর থেকেই দেখা যাচ্ছে এমন দৃশ্য। দীর্ঘ কয়েকদিন ধরে সকাল সকাল সূর্যের দেখা মিললেও আজ ঘন কুয়াশার কারণে সকাল গড়িয়ে গেলেও সূর্যের দেখা মেলেনি। কুয়াশায় আচ্ছন্ন পরিবেশে শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষ, শিশু ও বয়স্করা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে।
সকালের দিকে কুয়াশা আরও ঘন হওয়ায় ঠাকুরগাঁও–পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও–দিনাজপুর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক ধীর হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও যানবাহনকে খুব কাছ থেকে না এলে দেখা যাচ্ছিল না। এতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। সড়কে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় চালকদের।
স্থানীয় বাসিন্দা আল-আমীন বলেন, শীতে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ জোরদার করা জরুরি। কুয়াশা ও শীতের এই পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছি।
অন্যান্য বছর এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চোখে পড়লেও এবার তেমন কোনো উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান হয়নি বলে দাবি করছেন স্থানীয় জনগণ।
তাদের অভিযোগ, সাধারণত শীতের এই সময়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কম্বলসহ বিভিন্ন শীতবস্ত্র বিতরণ করা হতো। কিন্তু চলতি শীত মৌসুমে এখন পর্যন্ত তারা সে ধরনের কোনো কার্যক্রম দেখেননি বা শোনেননি।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা হাবিব বলেন, আগের বছরগুলোতে এই সময়েই আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র পেয়েছি। অথচ এবার তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার মধ্যেও হতদরিদ্র মানুষের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পৌঁছায়নি।
দ্রুত জেলার অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান হাবিব।
এদিকে জেলায় আবহাওয়া অফিস না থাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী আজ ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে অনেক মানুষ কাজে বের হতে পারছেন না। ফলে দৈনন্দিন জীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

মো. আব্দুল্লাহ, ঠাকুরগাঁও (সদর-বালিয়াডাঙ্গী)