নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হতে না দেওয়ার দাবি পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হতে না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষার্থীরা। আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি জমা দিয়ে তারা এ দাবি জানায়।
স্মারকলিপি জমা দিয়ে বাংলাদেশ কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মাশফিক ইসলাম দেওয়ান বলেন, দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে নির্বাচনকে বানচাল ও ষড়যন্ত্র করার একটা স্পষ্ট প্রতিপদ্য আমরা লক্ষ্য করতে পারছি। সেজন্য আমরা নির্বাচন কমিশনে আসছি এবং তাদের জানিয়েছি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যেন কোনো ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপ হতে না দেয়।
মাশফিক ইসলাম দেওয়ান আরও বলেন, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং কারিগরি শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি সংঘর্ষ লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এই সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে এই নির্বাচনকে সুপরিকল্পিতভাবে বানচালের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা দেশ অস্থিতিশীল হবে, এমন কোনো কর্মকাণ্ড চাই না। আমরা চাই, নির্বাচনি কর্মকাণ্ড সুস্পষ্ট ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হোক।
এর আগে দুপুর ২টার দিকে মিছিল নিয়ে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করে পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষার্থীরা। পুলিশের বাধায় ইসির গেটের বাইরে অবস্থান করে তারা।
সে সময় কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মাশফিক ইসলাম দেওয়ান বলেন, আমরা চাই দেশ স্থিতিশীল থাকুক। কিন্তু প্রকৌশল সেক্টরে যে ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে সে সিদ্ধান্তের ফলে দেশ স্থিতিশীল থাকবে না। দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। নির্বাচনি কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হবে। আমরা চাই না এমনটা হোক। আমরা চাই রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করতে। নির্বাচনি কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আজকে আমরা আগারগাঁও এসেছি।
এরপর শিক্ষার্থীদের মধ্য দিয়ে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দিন খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপি জমা শেষে তারা মিছিল নিয়ে ইসির গেট থেকে নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে প্রকৌশল খাতকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ও বিএসসি প্রকৌশলীদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পেশাগত জটিলতাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি, উসকানি ও উত্তেজনা সৃষ্টির সুস্পষ্ট আলামত পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই মহলটি ইচ্ছাকৃতভাবে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উসকে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য, অস্থিতিশীল মন্তব্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তৎপরতা পরিচালনা করছে, যার মূল লক্ষ্য নির্বাচন-পূর্ব সময়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। এই ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড কেবল একটি পেশাজীবী গোষ্ঠী নয়, বরং সার্বিকভাবে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং নির্বাচন-পূর্ব সময়ে যেন কোনো গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নজরদারি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এদিকে পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষার্থীদের ঘেরাও কর্মসূচি ঘিরে ইসিতে পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার করতে দেখা গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক