তরুণ ভোটারদের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় জায়মা রহমান
তরুণ ভোটারদের সঙ্গে অন্যরকম ‘চায়ের আড্ডা’ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জায়মা রহমান। হাসি, কৌতূহল এবং নতুন কিছু শেখার মধ্যদিয়ে পুরো অনুষ্ঠান মেতে থাকেন তিনি। এই ব্যতিক্রমী আড্ডায় তরুণদের রাজনৈতিক সচেতনতা, ভোটাধিকার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ ঢাকা নিয়ে তাদের ভাবনা বিনিময় করেন।
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস খেলার মাঠে ইন্টারেক্টিভ যুব সম্পৃক্ততা অনুষ্ঠান ‘চায়ের আড্ডা’ নামের এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরের সরাসরি সংলাপ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কন্টেন্ট জেনারেশন টিম।
অনুষ্ঠানে প্রতিটি টেবিলে টেবিলে গিয়ে তরুণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন জায়মা রহমান। সেখানে তরুণ সোশ্যাল মিডিয়ার সমস্যা এবং সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চান তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ঢাকা তরুণরা কেমন দেখতে চান এবং পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চান তিনি। এ বিষয়ে তরুণরা তাদের মতামত দেন।
এরপর জায়মা রহমান বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার ভালো দিক আছে, আবার খারাপ দিকও আছে।
‘ক্যাম্পাসের বাইরে ঢাকায় খেলাধুলার করার মতো জায়গা নেই এবং পরিবারের সময়টা সেভাবে পাওয়া যায় না’—এসব সমস্যার কথা জায়মা রহমানের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন তরুণরা।
এ সময় জায়মা রহমান বলেন, ঢাকায়ও কমিউনিটি সেন্টার, পার্ক হলে সেখানে মানুষ আসবে, মিশবে। এই জায়গা যদি তৈরি করা হয়, সেখানে নিরাপত্তার দিক থেকেও বেনিফিট। তখন হয়তো সবাই ফোনে ব্যস্ত থাকবে না, কিছু করার থাকবে।
সোশ্যাল মিডিয়ার নারীদের স্বাধীনতার বিষয়ে জায়মা রহমান বলেন, নারীরা যে মতপ্রকাশ করবেন, ওটা করার সাহস থাকে না। স্কুল থেকে যদি শেখানো হয়, ওটা করতে হবে। সেটা যদি বারবার শেখানো হয়, তাহলে সেটা মাথায় ঢুকে থাকে—এই জিনিসগুলো করা খারাপ। আর শুধু আইন থাকলে হয় না। সেটা সবাই জানবে এবং বুঝবে। আমার জানামতে, মেটা সেভাবে কাজ করে। তাদের আবার আনতে হবে এবং তাদের সঙ্গে কাজ করতে হবে। এগুলো যদি করা যায়, তাহলে এগুলো কমানো যেতে পারে।
‘ঢাকায় যানজট, রাস্তাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন তরুণরা। জায়মাও এ বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন। বায়ু দূষণমুক্ত ঢাকা দেখতে চান, ঢাকায় গাছ কমে গেছে, খাল-বিল দখল করে বাড়ি নির্মাণ, ট্রাফিক সিগন্যাল, ফুটপাতে গাড়ি চালানো’—এসব বিষয় নিয়ে তরুণদের আলোচনায় অংশ নিয়ে জায়মা রহমান বলেন, এসব ঠিক রাখতে হবে সবার জন্য।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া আরেক টেবিলের তরুণরা শহর এবং গ্রামের ছাত্রদের মধ্যে এক ধরনের বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে এটা কমিয়ে আনা জরুরি বলেও মতামত দেন। তাদের ভাষ্য, দরিদ্ররা তাদের সন্তানরা শিক্ষার ব্যবস্থা পাচ্ছে না। পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে দুটো ভাগ করা হয়েছে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের হেয় করা হয়, যেন তারা কিছুই জানে না। স্কুলের শ্রেণিকক্ষের অবস্থাও খারাপ বলেও জানান তারা।
তরুণদের এক প্রশ্নের জবাবে জায়মা রহমান বলেন, ১৭ বছর পরে এসেছি। এর মধ্যে আসিনি, কিন্তু খোঁজ রেখেছি। আসার পর আপনাদের মতো তরুণদের নতুন করে দেখছি। আপনাদের সামনে আনা হয় না। আর বাংলাদেশে সবাই নিজের মত এবং আদর্শ প্রকাশ করার স্বাধীনতা আছে। এই জিনিসটাকে যেন আমরা হারিয়ে না ফেলি।
জায়মা রহমান বলেন, আমাদের উদ্দেশ্যে হয়ত এক, যেমন আমরা বললাম—সবার যেন কথা বলার অধিকার থাকে। আর একা কাজ করা সম্ভব না। আমরা সবাই মিলেই কাজ করব।
অনুষ্ঠানে তরুণরা জায়মা রহমানের সঙ্গে নারীদের চলাফেরা এবং চাকরির ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বসহ আলোচনা করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক