ববি হাজ্জাজের ৯ দফা নির্বাচনি ইশতেহার
ঢাকা-১৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ ৯ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঢাকা-১৩ সংসদীয় আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ‘নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ এবং আচরণবিধি প্রতিপালন’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে নিজের ৯ দফা ইশতেহার তুলে ধরেন তিনি।
ববি হাজ্জাজের ৯ দফা নির্বাচনি ইশতেহার হলো—
এক. নিরাপদ ও সন্ত্রাসমুক্ত জীবন : কিশোর গ্যাং, মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। খানা প্রশাসন ও কমিউনিটির সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান, কড়া নজরদারি এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে মোহাম্মদপুর-আদাবর-শেরেবাংলা নগরকে নিরাপদ বসবাসযোগ্য এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
দুই. বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি : ন্যূনতম ভোগান্তি, সর্বোচ্চ জবাবদিহি। তিতাস ও ওয়াসার সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয়, সমস্যা-ভিত্তিক সার্ভিস ম্যাপ, জরুরি হটলাইন এবং স্থায়ী ফলোআপ ব্যবস্থা চালু করা হবে। স্থানীয় এমপি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়ে মাসিক ওপেন টাউনহলে জনগণের সমস্যা সরাসরি শুনে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিন. রাস্তা ও ড্রেনেজ : সমস্যা নয়, সমাধানের অঙ্গীকার। ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনা ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রাস্তা, ফুটপাত, কালভার্ট ও ড্রেনেজ উন্নয়ন করা হবে। জলাবদ্ধতা কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মাসে একবার অগ্রগতি প্রকাশ করে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।
চার. খাল ও লেক : দূষণ নয়, নিরাপদ পানি ও দখলমুক্ত পরিবেশ। সুয়ারেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঠিক করে নিয়মিত ডেসিল্টিং ও ক্লিন-আপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বিল্ডিং কোড ও বর্জ্য ফেলার আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করে মোহাম্মদপুরের খাল ও লেককে দখল ও দূষণমুক্ত করে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
পাঁচ. নারীর নিরাপত্তা : প্রতিটি পথ, প্রতিটি পদক্ষেপ হবে নিরাপদ। আলোকসজ্জা, সিসিটিভি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপদ রাস্তা নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী নারীদের জন্য নিরাপদ হোস্টেল সহায়তা এবং নারীবান্ধব পরিবহণের নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ছয়. যুব ক্ষমতায়ন : মেধাবী দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য এডুকেশন ভাতা চালু করে তরুণদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
সাত. বিহারি ক্যাম্প উন্নয়ন : মর্যাদাপূর্ণ ও মানসম্পন্ন জীবন। বাসস্থান উন্নয়ন, পানি-স্যানিটেশন, শিশুদের স্কুলিং ও তরুণদের স্কিল ট্রেনিং নিশ্চিত করা হবে। স্থানীয়দের অংশগ্রহণে জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের মাধ্যমে মাদক ও অপরাধমুক্ত নিরাপদ ক্যাম্প গড়ে তোলা হবে।
আট. ব্যবসাবান্ধব এলাকা : চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। সহায়তা ডেস্ক ও দ্রুত অভিযোগ-ফলোআপ ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধ করা হবে। অবৈধ জমি দখল, ফুটপাত ও পার্কিং দখল এবং খেলার মাঠ ও জনসাধারণের স্থান দখলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
নয়. কমিউনিটি রিলেশনস : সমস্যা চিহ্নিত করে দৃশ্যমান সমাধান দেওয়া হবে। প্রতি ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট দিনে ওপেন টাউন হল, মসজিদ-মাদ্রাসার আলেমদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ এবং ২৪/৭ ফোন ও ফিজিক্যাল হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, সমাধান ও ফলোআপ নিশ্চিত করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক