ক্ষমতায় গেলে রোবটিক নজরদারির মাধ্যমে নিরাপত্তা দেবে জামায়াত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এতে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় গেলে রোবটিক নজরদারির মাধ্যমে দেশের মানুষের নিরাপত্তা দেবে দলটি।
আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে এই ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। মোট ৪১টি দফায় এই ইশতেহারে ঘোষণা করা হয়।
স্মার্ট সিটি নিরাপত্তা : বড় শহরগুলোতে স্মার্ট সিসিটিভি, ফেস রিকগনিশন, ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট, রোবটিক নজরদারি ও দ্রুত রেসপন্স ইউনিট গঠন করে নগর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
নিরাপত্তাসংক্রান্ত ইশতেহারে বলা হয়, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, আধুনিক ও নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং এআইসহ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে একটি সৎ, দক্ষ, আধুনিক, মানবিক ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা: নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও আনসার বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হবে। বাহিনীগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় ও যৌথ অভিযান সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
দুর্নীতিমুক্ত পুলিশ প্রশাসন : পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণরূপে দুর্নীতিমুক্ত করতে কার্যকরী ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ সদস্যদের বেতন, আবাসন, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত পুলিশ প্রশাসন গড়ে তোলা হবে।
জনমুখী পুলিশিং : জনগণের মনে পুলিশ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ট্রেনিং ম্যানুয়েলে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক অনুশাসন অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে শক্তিশালীকরণ : আনসার বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি, তাদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে প্রান্তিক অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের কার্যকারিতা বাড়ানো হবে।
সন্ত্রাস ও চরমপন্থা দমন : সন্ত্রাস ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ব্যাপক গণসচেতনতা গড়ে তোলা হবে।
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ : নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, নিপীড়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল, হেল্পলাইন ও ভিকটিম সাপোর্ট সেল জোরদার করা হবে।
কারা সংস্কার : জেলখানা সংস্কার করে কারাবন্দিদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ, কারা দুর্নীতি দূরীকরণ এবং কারারক্ষীদের দক্ষতা ও মানবিকতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বাংলাদেশে পুলিশ ব্যবস্থার আইনি কাঠামো ঔপনিবেশিক আমলের (১৮৬১ সাল) পুলিশ আইন এবং রেগুলেশনের মাধ্যমে আজও পরিচালিত হচ্ছে। এই ধরনের ঔপনিবেশিক আইনসমূহ পরিবর্তন করা হবে। এক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে (২০২৪-২০২৫) পুলিশ রিফর্ম কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে।
পুলিশের কার্যক্রমে কোনোভাবেই যেন রাজনৈতিক দলের প্রভাব না পড়ে তা নিশ্চিত করা হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রদান বন্ধ করা হবে। কোনো মামলায় দোষী নয়, এমন ব্যক্তিদের মামলার মাধ্যমে হয়রানি ও এ সংক্রান্ত দুর্নীতি বন্ধ করা হবে। পুলিশি হেফাজতে থাকা বন্দিদের অধিকার রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোকে ম্যাজিস্ট্রেটের নজরদারিতে আনা হবে।
ডিজিটাল পাহারাদার অ্যাপের মাধ্যমে যেকোনো অপরাধের (চাঁদাবাজি, ঘুষ, নারী নির্যাতন) বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ডিজিটালি রিপোর্ট করা যাবে, যেখানে রিপোর্টকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক