আর কত লোক মারা গেলে সড়ক মন্ত্রী অস্বস্তিবোধ করবেন : সংসদে সাইফুল আলম মিলন
ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) সাইফুল আলম মিলন বলেছেন, আমাদের সড়কমন্ত্রী বলল ঈদে স্বস্তির যাত্রা ছিল। আমার প্রশ্ন হলো—আর কত লোক মারা গেলে তিনি অস্বস্তিবোধ করবেন?
আজ সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন সাইফুল আলম মিলন।
জামায়াতে ইসলামীর এই এমপি বলেন, গতকাল সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী ঈদযাত্রা সম্পর্কে বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, ঈদযাত্রা স্বস্তির ছিল। কিন্তু ঈদযাত্রার স্বস্তিটা আপনাদের সামনে বলতে চাই। বিআরটিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈদযাত্রায় ১৭০ জন মারা গেছেন, যাত্রীকল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩৭০ জন। এরপর আমরা দেখলাম দৌলতদিয়ায় একটা আস্ত বাস পানির নিচে চলে গেল। আমাদের সড়কমন্ত্রী বলল, স্বস্তির যাত্রা ছিল। আমার প্রশ্ন হলো— আর কত লোক মারা গেলে তিনি অস্বস্তিবোধ করবেন?
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে সাইফুল আলম মিলন বলেন, দৌলতদিয়ায় এত মানুষ মারা গেল, কিন্তু সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী গেলেন না। ওখানে যারা মারা গেছে তাদের জন্য মাত্র ২৫ হাজার টাকা। জীবনের মূল্য মাত্র ২৫ হাজার টাকা! আহতদের জন্য ১৫ হাজার টাকা।’
জামায়াতের এই এমপি বলেন, সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী একটি বিবৃতি দিলেন। আমরা তো ওয়েস্ট মিনিস্টার সংসদীয় ব্যবস্থা ফলো করি। বৃটেন হলে তো তিনি এতক্ষণে পদত্যাগ করতেন। সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী পদত্যাগের করবেন কি না? তিনি পদত্যাগের চিন্তা করবেন কি না?
এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন জামায়াতের এমপি শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রশ্নোত্তরকালে সবার অধিকার রক্ষা হচ্ছে। কিন্তু একটা বিষয়, আজ মাত্র পাঁচটি প্রশ্ন (তারকা চিহ্নিত) উত্থাপিত হয়েছে। আমরা মনে করেছিলাম, এক ঘণ্টায় ২০-২৫টির প্রশ্নোত্তরকাল চলতে পারে। সংসদে এমপিদের প্রশ্ন উত্থাপন এবং মন্ত্রীদের উত্তর দেওয়ার বিষয়টি আপনি (স্পিকার) নিয়ন্ত্রণ করেন। তাহলে সবার স্বার্থটা রক্ষা হয়।
মন্ত্রীরা অনেক বিজ্ঞ উল্লেখ করে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আইনমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন এক রকম, কিন্তু তার পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে বৈপরিত্য দেখা গেছে। যেটা আইনমন্ত্রী জবাব দেবেন, সেটা আইনমন্ত্রী দিলেই ভালো হয়। আমরা আইনমন্ত্রীর বক্তব্যটা গ্রহণ করতে পারি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বক্তব্য রাখেন, সেটাতে ভিন্নতা রাখা হয়।
মন্ত্রীদের প্রাসঙ্গিক অনুযায়ী বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে স্পিকারকে অনুরোধ করেন জামায়াতের এ এমপি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীকে নিয়ে শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের জবাব দিতে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলেন বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, তিনি আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করতে চেয়েছেন। বিএনপি এমন নেতার আদর্শে গঠিত, সেখানে কোনো বিভাজন নেই। যাদের মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা অত্যন্ত যোগ্য ব্যক্তি, তাদের মধ্যে বিভাজন নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক