সংস্কৃতি-বিনোদন নিয়ে ইশতেহারে যা জানাল জামায়াত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ২৬টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে এক অনুষ্ঠানে দলটি এ ইশতেহার প্রকাশ করে। ইশতেহারে জামায়াতে ইসলামী সংস্কৃতি-বিনোদন নিয়ে ক্ষমতায় গেলে যেসব পদক্ষেপ নেবে সেগুলো উল্লেখ করেছে। পাঠকদের উদ্দেশে তা তুলে ধরা হলো—
এক. সুদূর অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত এই জনপদের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাসকে দালিলিকভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার জন্য যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
দুই. শিক্ষাক্ষেত্রে উপেক্ষিত ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের পরিচিতি তুলে ধরার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
তিন. ঐতিহাসিক ঘটনাবলির আলোকে বিভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণের যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
চার. বিভিন্ন ঐতিহাসিক দিনগুলোকে স্মরণীয় করার লক্ষ্যে বিশেষ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই দিবসগুলো পালনের ব্যবস্থা করা হবে।
পাঁচ. সাংস্কৃতিক নীতি প্রণয়ন, দেশীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সংস্কৃতি বিনিময় ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক বোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক গবেষকদের নিয়ে একটি জাতীয় সাংস্কৃতিক কমিশন গঠন করা হবে।
ছয়. সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ২১টি দপ্তর বা সংস্থার মান উন্নয়ন, যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং গতিশীল করার ক্ষেত্রে একটি বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করা হবে। তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং অধিভুক্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশের শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
সাত. দেশের জনগণের বোধ-বিশ্বাস ও আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হবে। অশ্লীলতা পরিহার এবং যেকোনো ধর্মের প্রতি অবমাননাকর উপস্থাপনা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হবে।
আট. প্রবাসী নতুন প্রজন্মদের বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে উদ্বুদ্ধকরণ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি তুলে ধরা এবং বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
নয়. সাহিত্যিক ও শিল্পীদের অবদানের ভিত্তিতে সম্মানজনক রাষ্ট্রীয় পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হবে। দুস্থ ও প্রতিভাবান শিল্পীদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত শিল্পী কল্যাণ তহবিল বাজেট বৃদ্ধি করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক