জামালপুর-২ আসনে বিএনপি-জামায়াতের টার্গেট নৌকার ভোট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র বাকি কয়েকদিন। প্রচার-প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সব প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা। দীর্ঘ দেড় দশক পর পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন জানাতে অধির আগ্রহে অপেক্ষায় ভোটাররা।
ইসলামপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন ১৩৯ বা জামালপুর-২ (ইসলামপুর)। এখানে আওয়ামী লীগের আধিপত্য থাকলেও এবারের নির্বাচনে আসনটি দখলে নিতে চায় বিএনপি ও জামায়াত। এই আসনে বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও ধানের শীষের পক্ষে এখন সবাই একজোট। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় বিএনপির সঙ্গে লড়াই হবে জামায়াতের। নির্বাচনে জয়ী হতে উভয় দলেরই টার্গেট আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোট। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
এই আসনে ২০০৮ সাল থেকে পরের সব নির্বাচনে এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ সদস্য ছিলেন। এই আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাবু। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে টানা পাঁচটি সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হন। কিন্তু শুধু ২০০১ সালের নির্বাচনে জয় লাভ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। দল এবারও তাকে বেছে নিয়েছে। কিন্তু এই আসনে বেশ কয়েকজন নেতা বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। সুলতান মাহমুদ বাবুকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়ার পর আন্দোলনে নামেন মনোনয়ন বঞ্চিতরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রার্থী পরিবর্তন না হওয়ায় দলীয় প্রার্থীর পক্ষেই অবস্থান নেন সব নেতাকর্মীই।
বন্যা ও নদী ভাঙন প্রবণ ইসলামপুর উপজেলায় সব সময় সংসদে আধিপত্য ধরে রেখেছিল আওয়ামী লীগ। ১৯৭৯ সাল থেকে পরবর্তী ১১টি নির্বাচনে আট বার আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দুই বার বিএনপি ও একবার জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা এই আসন থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন। এবার এই আসনটি নিজেদের দখলে নিতে মরিয়া বিএনপি। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই নির্বাচনি এলাকায় প্রতিনিয়তই দিন-রাত ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকরা, করছেন সভা-সমাবেশ। দলীয় প্রার্থীকে সংসদে পাঠাতে ধানের শীষের পক্ষে একজোট হয়েছেন মনোনয়ন বঞ্চিতরাসহ দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী।
এদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. ছামিউল হক ফারুকী এই আসনে ১১ দলীয় জোটের একক প্রার্থী। ভোটের মাঠে বেশ সরব উপস্থিতি তার। নির্বাচনে বিজয়ী হতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন সভা সমাবেশ করছেন তিনি। যমুনা তীরবর্তী বিভিন্ন চরাঞ্চল ও দ্বীপচরগুলোতে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সমর্থন তুলনামূলক বেশি। এসব এলাকা থেকে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ভোটে এগিয়ে থাকবেন। ১১ দলীয় জোট থেকে একক প্রার্থী থাকায় সব কর্মী-সমর্থকরা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করছেন। প্রতিদিনিই তারা ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন, দলীয় প্রার্থীর জন্য চাচ্ছেন ভোট।
তবে বিএনপি ও জামায়াত উভয়েরই টার্গেট আওয়ামী লীগের সমর্থক তথা নৌকার ভোট। এবারের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না থাকায় প্রার্থীরা ঝুকছেন আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছে। এই আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র মিলে মোট চার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এই আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী দলের জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা সুলতান মাহমুদ সিরাজী। দলের সাংগঠনিক অবস্থার কারণে নির্বাচনের মাঠে তিনিও কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন। ভোটারদের কাছে হাতপাখা প্রতীকে ভোট চাইতে তিনি নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মঞ্জুরুল আহসান খানের ভাতিজা অর্ণব ওয়ারেস খান এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। প্রতীক বরাদ্দের দিন তিনি পছন্দের প্রতীক না পাওয়ায় অন্য কোনো প্রতীক গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে তাকে ঘোড়া প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। এতে প্রায় এক সপ্তাহ পর থেকে তিনি নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন।
ভোটার ও প্রার্থীদের প্রত্যাশা যথাসময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব দলের প্রার্থী ও সমর্থকরা নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলবেন। নির্বাচনি প্রচার-প্রচরণা নিয়ে যেন কোনো সংঘাত বা সহিংসতা না হয় সেজন্য প্রশাসনসহ সবাইকে সজাগ থাকবে হবে। ভোটের দিন যেন ভোটকেন্দ্রগুলোতে নির্বিঘ্নে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদানের সুষ্ঠু পরিবেশ থাকে এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ ভোটারসহ সবার।

আসমাউল আসিফ, জামালপুর