উদ্ধারকারী ইঞ্জিনের ধাক্কায় বিকল ট্রেনের বগি ক্ষতিগ্রস্ত, অনেক যাত্রী আহত
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে প্রায় ৭ ঘণ্টা আটকে থাকার পর এক মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর ‘পাহাড়িকা এক্সপ্রেস’। বিকল ট্রেনটিকে উদ্ধার করতে আসা অন্য একটি ইঞ্জিনের ধাক্কায় ট্রেনের পেছনের বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে অনেক যাত্রী আহত হয়েছেন।
আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি লাউয়াছড়া বনের ভেতরে প্রবেশ করলে হঠাৎ এর ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। ফলে গহীন বনের ভেতরেই আটকা পড়েন কয়েকশ যাত্রী। দীর্ঘ সময় পার হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়ায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, বিকল ট্রেনটিকে উদ্ধারের জন্য শমশেরনগর থেকে একটি ইঞ্জিন পাঠানো হয়। উদ্ধারকারী ইঞ্জিনটি প্রায় ৭০ কিলোমিটার গতিতে এসে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রেনের পেছনের বগিগুলো দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়। ধাক্কায় অনেক যাত্রীর মাথা ফেটে গেছে এবং অনেকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।
বনের ভেতরে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক না থাকায় যাত্রীরা দীর্ঘ সময় কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। খাবার ও পানির তীব্র সংকটে ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত অবস্থায় নারী ও শিশুরা চরম অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হন। নিরাপত্তার অভাব ও আতঙ্কে অনেক যাত্রী ট্রেন থেকে নেমে পায়ে হেঁটে বন পেরিয়ে সড়কপথে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার গৌড় প্রসাদ দাস জানান, পাহাড়িকা এক্সপ্রেস বনের ভেতর বিকল হওয়ার পর শমশেরনগর থেকে আসা ইঞ্জিনটি ধাক্কা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি আরও জানান, পরে শ্রীমঙ্গল থেকে বিকল্প ইঞ্জিন এনে ট্রেনটি ভানুগাছ স্টেশনে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আহাদ মিয়া, মৌলভীবাজার (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ)