অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পেছাল
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত।
আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই আদেশ দেন। এদিন মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি প্রতিবেদন জমা করতে না পারায় বিচারক নতুন দিন ধার্য করেন।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ পড়ে নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করেন শহীদ ওসমান হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে ওইদিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর মারা যান ওসমান হাদি।
এজাহার থেকে জানা গেছে, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে হাদি মারা গেলে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত হয়ে হত্যা মামলা সংযুক্ত হয়।
পরে গত ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে বাদীপক্ষ গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি দাখিল করেন। পরবর্তীতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
অভিযোগপত্রে থাকা আসামিরা হলেন— সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পি ও ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদ, মো. হুমায়ুন কবির (৭০), হাসি বেগম (৬০), সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)।

আদালত প্রতিবেদক