খেলাধুলা শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও দেশপ্রেম শেখায় : কাদের গনি চৌধুরী
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, খেলাধুলা মানুষকে শারীরিক ও মানসিক শক্তি জোগায়। পাশাপাশি শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও দেশপ্রেম শেখায়। এই চিরন্তন বাক্যগুলো আমাদের খেলাধুলার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়। অথচ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টিকে আমরা বরাবরই উপেক্ষা করে আসছি। স্বাস্থ্য ভালো থাকলে মনও ভালো থাকে।
আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হোটেল ইম্পিরিয়াল মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফটোজার্নালিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাদের গনি চৌধুরী এসব বলেন।
বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম মহসিনের সভাপতিত্বে ও খোকন শিকদারের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নিয়ে সিনিয়র সাংবাদিক এবিএম রফিকুর রহমান, মশিউর রহমান সুমন, সজল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, শিশুর বিকাশের মূলে রয়েছে খেলাধুলা। খেলাধুলা শিশুর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক বিকাশসহ বিভিন্ন উপায়ে শিখতে ও বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। খেলাধুলা শিশুর সৃজনশীলতা ও কল্পনা বিকাশেও সহায়তা করে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এখন আর শিশুদের খেলার মাঠে খুব একটা দেখা যায় না। সকালে সূর্যের মুখ দেখা যেতে না যেতেই ছেলে-মেয়েরা একগাদা বই কাঁধে নিয়ে অথবা কোচিং সেন্টারের দিকে ছোটে। সারাদিন ক্লাস শেষে তারপর ঘরে ফেরা। অনেকের কপালে এই সৌভাগ্যটুকুও জোটে না। স্কুল শেষে অনেক ছেলে-মেয়েই প্রাইভেট বা কোচিং পানে ছোটে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের শিশুদের একটা বড় অংশই পড়াশোনার চাপে পিষ্ট হয়ে খেলার মাঠে যাওয়ার সুযোগও পায় না। অনেকে খেলাধুলাকে পাশ কাটিয়েই চলে। ভাবটা এমন যে, খেলাধুলা করে হবেটা কী! তার চেয়ে বরং মোবাইলে একটু গেম খেলা কিংবা একটু টেলিভিশন দেখাও ভালো! এভাবে স্মার্টফোন ও আকাশ সংস্কৃতি আমাদের আগামী প্রজন্মকে গ্রাস করে ফেলেছে।
বর্তমান প্রজন্মের মোবাইল ফোন আসক্তিতে সাংবাদিকদের এ নেতা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন উল্লেখ করে বলেন, আমাদের দেশের স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এখন মাঠে যেতে চায় না। তারা স্ক্রিনেই সময় কাটায় বেশি, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এর ফলে ভবিষ্যতে একটি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ জাতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সত্যিকথা বলতে কী ইন্টারনেটের এ যুগে আমরা স্মার্টফোনে গেম খেলতে খেলতে সত্যিকারের খেলা প্রায় ভুলে গেছি। আমাদের সন্তানেরা অনেক খেলা সম্পর্কে জানেও না। খেলাধুলা শুধু ছোটদের জন্যই নয় বড়দের জন্যও সমান প্রয়োজন। তাই ছোট বাচ্চাদের খেলার উপকারিতা শেখাতে গিয়ে নিজের ব্যাপারটাও ভুলে যাবেন না। ঘর ও কাজের মাঝে প্রতিদিন ৩০ মিনিট সময় বের করুন খেলার জন্য, পরিবারের সবাইকে উদ্বুদ্ধ করুন। আর অবশ্যই একে বাধ্যবাধকতা না মনে করে খেলাকে শখ হিসেবে গ্রহণ করুন, পরিবারের সঙ্গে খেললে পারিবারিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে সেই সঙ্গে সময়টাও আনন্দে কাটবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক