৫ দিন পর পদ্মায় নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে লাফ দিয়ে নিখোঁজ হওয়া রেজাউল শিকদারের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ। গতকাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাতে ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের সেলিমপুর চর এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
রেজাউল শিকদার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বাহির দৌলতদিয়া শাহাদৎ মেম্বারপাড়ার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে। আজ সকালে তাঁর পরিবার মরদেহ শনাক্ত করে।
রেজাউল শিকদারের বড় ভাই মোস্তফা শিকদার জানান, ফরিদপুর নর্থচ্যানেল এলাকার এক ব্যক্তি ফোনে জানান যে নদীতে একটি মরদেহ ভেসে উঠেছে। পরে স্বজনরা সিঅ্যান্ডবি ঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করে। মরদেহের পরনে থাকা নীল জিনস প্যান্ট, নীল শার্ট এবং পকেটে থাকা কাগজপত্র দেখে রেজাউলের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
ফরিদপুর সিঅ্যান্ডবিঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাসিম আহম্মেদ বলেন, ‘কয়েক দিন পানিতে থাকায় মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে একটি ফেরির পন্টুনে জুয়াড়ি চক্রের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে রেজাউল শিকদার পদ্মা নদীতে লাফ দেন। তবে নিহত রেজাউল শিকদারের পরিবার দাবি করেছে, প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাকে নদীতে ফেলে দিয়েছে।
রেজাউলের বড় ভাই হারুন শিকদার ও রবিউল শিকদার জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে স্থানীয় একটি পরিবারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিল। তাদের ধারণা, সে বিরোধের জেরেই রেজাউলকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি নৌপুলিশ ফাঁড়ির এসআই তপন কুমার নন্দী এনটিভি অনলাইনকে বলেন, খবর পেয়ে আমরা মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। পরে পরিবারের লোকজন এসে পরিচয় শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের পর বিকেলে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিখোঁজের পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল টানা দুই দিন উদ্ধার অভিযান চালালেও রেজাউলের কোনো সন্ধান মেলেনি। পাঁচ দিন পর তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হলো।

মো. কবির হোসেন, রাজবাড়ী