বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের গলায় মালা পরালেন জামায়াতের প্রার্থী
নির্বাচনের জয়-পরাজয় শেষে প্রতিহিংসা নয়, বরং সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মোড়লের বাড়িতে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান।
ভোটের লড়াই শেষে দুই নেতার এই মিলনস্থলে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। পরাজিত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মোড়ল হাসিমুখে বিজয়ী জালাল উদ্দিনকে ফুলের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান। একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময়ের এই দৃশ্য উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে অভিভূত করে, যা এলাকায় রাজনৈতিক সম্প্রীতির এক ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই; তবে জনগণের রায় আমাদের সবাইকে সম্মানের সঙ্গে মেনে নিতে হবে। আমি দল-মত নির্বিশেষে পাকুন্দিয়া-কটিয়াদীর সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। তিনি তার সাবেক পৌর মেয়রের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এলাকার টেকসই উন্নয়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, এই আসনের ১৭০টি কেন্দ্রে অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শফিকুল ইসলাম মোড়ল ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৯৭৫ ভোট।
ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থীর এভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীর বাড়িতে ছুটে যাওয়ার ঘটনাকে স্থানীয় বাসিন্দারা আধুনিক গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সহনশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এই সম্প্রীতির রাজনীতিই আগামী দিনে এলাকার উন্নয়নে মূল চালিকাশক্তি হবে।

মাহবুবুর রহমান, কিশোরগঞ্জ (বাজিতপুর-কটিয়াদি-নিকলী-পাকুন্দিয়া)