স্বাধীনতার পর প্রথমবার ধানের শীষের বিজয়
দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়ে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)। স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার ধানের শীষের জোয়ারে বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হাজী মুজিব পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্য ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ নূরে আলম হামিদী (রিকশা প্রতীক) পেয়েছেন ৪৯ হাজার ১৮৯ ভোট। এতে হাজী মুজিব ১ লাখ ২০ হাজার ৪১৯ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
স্বাধীনতার পর থেকে এই আসনটি মূলত আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। বিভিন্ন সময়ে জাতীয় পার্টি, জাসদ কিংবা জামায়াত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও এখানে জয়ের দেখা পায়নি। এমনকি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুল রহমান এ আসনে মাত্র ৬ হাজার ৫৯৪ ভোট পেয়েছিলেন।
২০০৮ সালে হাজী মুজিব প্রথমবার বিএনপির প্রার্থী হয়ে ৭৯ হাজার ৫৯৯ ভোট পান। ২০১৮ সালের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনেও তিনি লক্ষাধিকের কাছাকাছি ভোট পেয়েছিলেন। ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় আওয়ামী লীগ এককভাবে জয়ী হলেও এবার পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে।
এই আসনের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন চা শ্রমিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী। নাগরিকত্ব ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধার ইস্যুতে দীর্ঘদিন চা শ্রমিকরা আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক বছরে হাজী মুজিবের ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে বিপুল সহায়তা সাধারণ ভোটারদের মন জয় করেছে। ফলে এবার এই বিশাল ভোট ব্যাংক বিএনপির বাক্স ভারি করেছে।

আহাদ মিয়া, মৌলভীবাজার (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ)