নির্বাচন প্রত্যাশার চেয়েও সফল হয়েছে : ইসি আনোয়ারুল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রত্যাশার চেয়েও সফল হয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। এ নির্বাচনে সাংবিধানিক এ সংস্থাটি সন্তুষ্ট বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এ দাবি করেন।
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ইসি তড়িঘড়ি গেজেট প্রকাশ করেছে। তবে, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, ‘এটি যথাসময়ে প্রকাশ হয়েছে। আরও আগে যদি দেওয়া যেত, ভালো হতো।’
ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সফল মনে করি। ওভারঅল নির্বাচনটা নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। পারসেন্টেজ বলেন, ভোট ব্যবস্থাপনা বলেন, আপনাদের সকলের সহযোগিতা বলেন, সব মিলেই আমরা সন্তুষ্ট। আল্লাহ তালার অশেষ মেহেরবানীতে একটি সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ এই নির্বাচনকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য সহযোগিতা করেছেন।’
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে উনারা আজকে এসেছিলেন। আমরা দীর্ঘক্ষণ উনাদের বক্তব্য শুনেছি। উনাদের বক্তব্য অনুযায়ী কিছু সমস্যার কথা উনারা উল্লেখ করেছেন। গেজেট প্রকাশের যে সময়কাল, আমরা আশাবাদী ছিলাম, আরও আগে যদি দেওয়া যেত ভালো হতো। ইসিতে যারা সংযুক্ত ছিলেন, তারা রাতদিন পরিশ্রম করে গেজেটটি প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছেন। এটি যথাসময়ে প্রকাশ হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সেটি বিশ্বাস করে।’
শপথের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘শপথের যে বিষয়টি রয়েছে, সেটি হলো সংবিধানের ১৪৮ আর্টিকেল যদি আমরা একটু লক্ষ্য করি, দেখবো ভোটগ্রহণের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে তিন দিনের মধ্যে যদি স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকার শপথ না পড়ান তাহলে চতুর্থ দিন থেকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাবেন। আরও যে আইনগত বিষয়গুলো রয়েছে সেগুলোর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ সংশ্লিষ্ট যারা রয়েছেন তারা হয়তো করবেন। তবে এর বাইরে বেশি কিছু বলা আমার পক্ষে এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। কারণ কবে কখন এই শপথ অনুষ্ঠিত হবে সেটি এখনো আমরা অফিশিয়ালি অবগত নই।’
শপথের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নে এ কমিশনার বলেন, ‘এখন বিষয়টি হচ্ছে সরকারের সাথে আমাদের নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রশাসনিক যে যোগাযোগগুলো হয়ে থাকে সেই জায়গা থেকে একটু আগেও আমি খবর নেয়ার চেষ্টা করেছি। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে ওরকম অফিশিয়াল কোন চিঠিপত্র বা যোগাযোগ হয়নি।’
জামায়াতের পুনরায় ভোট গণনার দাবির ব্যাপারে ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় প্রত্যেক প্রিজাইডিং অফিসারকে দেহরক্ষী হিসেবে আমরা অস্ত্রসহ একজন আনসারকে দিয়েছি। আনসারের কাছে সুরক্ষা অ্যাপ ছিল। যখন যেখানে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা সেলে তথ্যটি এসেছে। বহু সংখ্যক ড্রোন এঙ্গেজ রেখেছি, হেলিকপ্টার এঙ্গেজ রেখেছি, বডি ওর্ন ক্যামেরা রেখেছি। প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা ছিল। এমন একটি পরিস্থিতিতে সবকিছু আয়নার মত পরিষ্কার। আমরা এখান থেকে কোনটা সত্য তথ্য, কোনটা মিথ্যা তথ্য সবগুলোই মনিটর করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। নির্বাচন কমিশন মনে করে যখন যেই ঘটনাটি আমাদের দৃষ্টিতে এসেছে আমরা শতভাগ সেটিকে এড্রেস করার চেষ্টা করেছি এবং সমাধান করেছি। তাদের যে দাবি করা হচ্ছে সেই দাবিটির বিচার বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। আইন তাদেরকে এই সুযোগ দিয়েছে যে, যদি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকে তারা সেটি হাইকোর্টকে জানাতে পারবেন। হাইকোর্ট সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।’
শেরপুর-৩ আসনের তফসিল কবে, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এগুলো আপনারা স্টেপ বাই স্টেপ পেয়ে যাবেন। শেরপুরের নির্বাচন, প্লাস আপনারা জানেন একজন প্রার্থী দুটি আসনে নির্বাচন করেছেন। তিনি কোনটি রাখবেন কোনটি রাখবেন না এ তথ্য এখনো নির্বাচন কমিশনে আসেনি। শেরপুরের নির্বাচনটাও আমাদের করতে হবে। কমিশন এখনো সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়নি। কমিশন সিদ্ধান্ত নিলে আপনারা জানতে পারবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক