পরীক্ষা না দিয়েই নিয়োগপত্র হাতে, যোগ দিতে গিয়ে যুবক আটক
লিখিত, ভাইভা কিংবা প্র্যাকটিক্যাল—কোনো পরীক্ষাতেই অংশ নেননি তিনি। অথচ হাতে নিয়োগপত্র নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে এসে ধরা পড়েছেন পুলিশের হাতে। ভুয়া নিয়োগপত্র ও নিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগে সুজা মিয়া (৩২) নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) থেকে।
আটক সুজা মিয়া শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার কুকড়া পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে ব্রির সদর দপ্তরে প্লাম্বার পদে যোগ দিতে গেলে তার জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ পায়।
ব্রি সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ অক্টোবর ৩১টি শূন্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে উত্তীর্ণদের যোগদানের চিঠি পাঠানো হয়। সুজা মিয়া ৩ ফেব্রুয়ারি তার নিয়োগপত্র হাতে পান। প্রথমে তাকে বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ে যোগ দিতে বলা হলেও সেখান থেকে তাকে গাজীপুর সদর দপ্তরে পাঠানো হয়। সদর দপ্তরে উপস্থিত হলে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয় এবং তার কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, সুজা মিয়ার প্রবেশপত্রে ‘মিলন মিয়া’ নামে অন্য এক ব্যক্তির ছবি। অর্থাৎ, তার হয়ে সব পরীক্ষায় অন্য কেউ অংশ নিয়েছিলেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজা মিয়া দাবি করেন, তিনি মিলন মিয়াকে চেনেন না। শ্রীবরদী এলাকার মাহবুব নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে সাত লাখ টাকার বিনিময়ে তিনি এই চাকরি পেয়েছেন।
ঘটনার সময় ব্রির মহাপরিচালক কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না এবং ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, নিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগে ব্রি কর্তৃপক্ষ সুজা মিয়াকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন। এই জালিয়াতি চক্রের পেছনে কোনো বড় দালাল চক্র বা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

নাসির আহমেদ, গাজীপুর