বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিলে কোনো শপথই নেবে না জামায়াত-এনসিপি
বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিলে কোনো শপথই নেবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, বিএনপির যে সিদ্ধান্ত তা জাতিকে হতাশ করেছে। আমরা মিটিং করে একটু পরেই জানাবো আপনাদের।
আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন এনটিভি অনলাইনকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সংসদে আজ সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। একটা সংসদ সদস্য হিসেবে আরেকটা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। বিএনপি যদি দুটি শপথ না নেয় এনসিপির নবনির্বাচিতরা কোনো শপথ নেবেন না।
মনিরা শারমিন আরও বলেন, এটি আমাদের এনসিপির সিদ্ধান্ত। জোটের বাকিরাও আশা করি একই রকম সিদ্ধান্ত নেবেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এ বিষয়ে সংসদ ভবনে আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আমাদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ইতোমধ্যে সংসদ ভবনে গিয়েছেন। সেখানে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচিতদের মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। ওই মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হবে শপথ নেবে কি নেবে না। আপনারা শিগগিরই বিষয়টি জানতে পারবেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন এনটিভি অনলাইনকে বলেছেন, যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ সবাই না নেয় তবে আমরা কোনো শপথ নিবো না। এটা চূড়ান্ত।
১১ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, আমাদের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সেটা আপনারা জানতে পারবেন।
এর আগে আজ সকালে শপথ নেওয়ার পূর্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আজকে আমরা বিএনপির সংসদ সদস্যরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। সংবিধানে এখনও এটাকে ধারণ করা হয়নি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। কারণ এটা সংবিধানে এখানো ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে, সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কারের সদস্যকে কে শপথ পড়াবেন সেটা বিধান করতে হবে।
সালাহউদ্দিন আরও বলেন, সংবিধান সংস্কারের ফরম জাতীয় সংসদে গৃহীত হওয়ার পরে তখন সংবিধান সংস্কারের শপথের বিধান করা যাবে। আমরা সংবিধান অনুসারে এখানে এসেছি। আমরা সংবিধান মেনে এই পর্যন্ত চলেছি। আমরা আশা করি সামনের দিনেও চলবো। আমি মাননীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশে উনার উপস্থিতিতে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত জানালাম।

সোহরাব মাহাদী