নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসের নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন
নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে রাজধানী কাঠমান্ডুতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হয়েছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এ উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী (২১-২২ ফেব্রুয়ারি) নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষাগত বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
অনুষ্ঠানে কাঠমান্ডুভিত্তিক বিভিন্ন দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মিশনপ্রধান ও কূটনীতিক, সার্ক সচিবালয়ের প্রতিনিধি, নেপালের আন্তর্জাতিক সমন্বিত পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তা, ভাষাবিদ, শিক্ষাবিদ, বাংলাদেশ বিমান নেপাল অফিসের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ক্লাবের সদস্য, নেপাল-বাংলাদেশ মৈত্রী সমিতি ও নেপাল চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধি, নেপালি ব্যবসায়ী এবং নেপালে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
২১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠানের শুরুতেই নেপালের কূটনৈতিক কোরের সদস্যরা দূতাবাসে স্থাপিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। ইউনেস্কো জেনারেল কনফারেন্সের সভাপতি কর্তৃক প্রদত্ত ভিডিও বার্তাও প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে “বহুভাষিক শিক্ষার উপর যুবসমাজের কণ্ঠস্বর” বিষয়ে বক্তব্য দেন নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান। ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় আত্মোৎসর্গকারী ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি বলেন, মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও প্রসারের কোনো বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে নেপালে ইউনেস্কো কার্যালয়ের প্রধান বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। পাশাপাশি ফিনল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও রাশিয়ার মিশনপ্রধানগণ, ভারতের উপমিশন প্রধান এবং ইউনিসেফের উপপ্রতিনিধিরা ফিনিশ, সিংহলি, মালয়, রাশিয়ান, হিন্দি ও কোরিয়ান ভাষায় বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া নেপালে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি এবং নেপাল ভাষা কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে বাংলাদেশের নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকার প্রশংসা করেন। তাঁরা মাতৃভাষাসহ বহুভাষিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে টেকসই শিক্ষা ও উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আলোচনা শেষে একটি বহুভাষাভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এতে নেপালের তিনটি ভাষায় (নেপালি, নেওয়রি ও তামাং) এবং বাংলা ভাষায় সংগীত পরিবেশন করা হয়। সাংস্কৃতিক পর্বে নেপালের ঐতিহ্যবাহী থারু নৃত্যও পরিবেশিত হয়। কাঠমান্ডুর একটি স্থানীয় বিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। পরে নৈশভোজে বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবার উপভোগ করেন অতিথিরা।

জাহিদুর রহমান