মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাই কমিশনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন
যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাই কমিশনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে হাইকমিশন দুই পর্বের কর্মসূচি গ্রহণ করে। প্রথম পর্বে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
হাই কমিশন প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিতকরণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরবর্তীতে হাই কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থীরা পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। এ সময় মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে ইউনেস্কোর সাধারণ কনফারেন্সের প্রেসিডেন্টের ভিডিও বার্তা এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
প্রথম সচিব (বাণিজ্য) প্রণব কুমার ঘোষের সঞ্চালনায় আলোচনা পর্বে এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘বহুভাষিক শিক্ষার গুরুত্ব’ তুলে ধরে বক্তব্য দেন ড. মোহাম্মদ তারিকুর রহমান, মোহাম্মদ আলী তারেক, মিস তিয়াশা কাবেজ এবং আলী হায়দার মর্তুজা। বক্তাগণ বিশ্বায়নের যুগে মাতৃভাষার শিকড় দৃঢ় রেখে বহুভাষিক দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেন কৌশিক সরকার ও রাশনি উম্মায়া সারা।
হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, ভাষার অধিকারের জন্য জীবন বিসর্জনের এ ঘটনা শুধু বাঙালি জাতির গর্ব নয়, বরং সমগ্র বিশ্বে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা জোরদার করার আহ্বান জানান। বক্তব্যে তিনি সম্প্রতি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নবগঠিত সরকারকে অভিনন্দন জানান এবং সাফল্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ অংশে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় ভাষা আন্দোলনভিত্তিক গান ও কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক এবং হাই কমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কায়সার হামিদ হান্নান, মালয়েশিয়া