সৌদিতে দুর্ঘটনায় মা-বাবা-বোন হারানো ফাইজা এখন বাড়িতে
সৌদি আরবের সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবা-বোন হারানো আহত শিশু শিক্ষার্থী ফাইজা আক্তার (১০) বাড়িতে এসেছে। তবে সে জানে না তার মা-বাবা ও দুই বোন আর বেঁচে নেই। সে জানে তার মা-বাবা ও বোনরা বাড়িতে ফিরবে, তারা একসঙ্গে সবাই মিলে ঈদ করবে। তারা তার মতো হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।
আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংবাদকর্মীদের ফাইজা এসব কথা বলে। তবে মানসিকভাবে সবাই ভেঙে পড়ায় কাউকে ভিডিও করতে দেয়নি পরিবারের লোকজন।
ফাইজা বলেছে, নতুন জামা পরে তারা বাবার সঙ্গে ঈদ মেলায় যাবে। ঈদে তারা অনেক আনন্দ করবে।
গতকাল রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে ফাইজাকে নিয়ে তার মামা তানভীর হোসেন দেশের উদ্দেশে রওনা দেন। আজ ভোরে তারা রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের বাড়িতে আসেন। ফাইজা ওই গ্রামের ওশিম উদ্দিন বেপারিবাড়ির নিহত সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমানের মেজ মেয়ে। আসার পথে ফাইজার কিছু ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ফাইজা রামগঞ্জ ভাটরা ইউনিয়নের টিউরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যারয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পাঁচ দিন সে জেদ্দা শহরের কিংস ফয়সাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। চিকিৎসা শেষে মামা তানভীর হোসেনের সঙ্গে সে বাড়িতে ফিরেছে।
তানভীর হোসেন জানান, ফাইজা এখনো জানে না তার মা-বাবা ও দুইবোন মারা গেছে। সে জানে তারা হাসপাতালে তার মতো চিকিৎসাধীন। তারা সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরবে। সবার সঙ্গে সে ঈদ করবে। নিহতদের মরদেহ এখনো জেদ্দা হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। মরদেহ আনার প্রক্রিয়া চলছে।
মিজানুর রহমান মিজান (৪০) সৌদি প্রবাসী ছিলেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি তার স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে সৌদিতে ওমরাহ হজে যান। ওমরাহ শেষে ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে জেদ্দা থেকে সৌদির বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মিজান, তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), স্কুল পড়ুয়া মেয়ে মেহের আফরোজ (১৩) ও দেড় বছর বয়সী মেয়ে সুবহা আক্তার ও গাড়িচালক মো. জিলানী বাবর (৩০) মারা যান। ওই দুর্ঘটনায় ফাইজা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।

আবুল কালাম আজাদ, লক্ষ্মীপুর