বঙ্গোপসাগরে দুই জেলে গুলিবিদ্ধ
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় সশস্ত্র ডাকাত দলের গুলিবর্ষণে পাথরঘাটার দুই জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে মোংলা বয়ার পশ্চিমে গভীর সমুদ্রে এই ঘটনা ঘটে। আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আহতদের বরগুনার পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য আনা হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালমেঘা ইউনিয়নের পশ্চিম গুটাবাছা এলাকার দুলাল মিয়ার মালিকানাধীন ‘এফবি জাহিদ’ নামের একটি ট্রলারে ১৪ জন জেলে সাগরে মাছ ধরছিলেন। রোববার ভোরে হঠাৎ ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ট্রলারটি ধাওয়া করে। বিপদ টের পেয়ে জেলেরা জাল কেটে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে ডাকাত দল তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে।
আহত জেলে নুর আলম খান বলেন, ডাকাতরা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বড় টেংরা হাজির খাল এলাকার নুর আলম খান (৪৮) পিঠে এবং চরলাঠিমারা এলাকার শাহজাহান (৪৫) চোখে গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পর ডাকাত দল পিছু হটলে অন্য জেলেরা আহতদের নিয়ে দ্রুত উপকূলে ফিরে আসেন এবং মহিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
নুর আলম খান আরও বলেন, গত দুই মাস ধরে সাগরে ডাকাতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা আর সাগরে যেতে পারব না।
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি ‘জাহাঙ্গীর বাহিনী’ নামের একটি ডাকাত দল সাগর ও নদীতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এই বাহিনী মুক্তিপণের দাবিতে একাধিক জেলেকে অপহরণ করেছে। অনেকে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেও এখনও চারজন জেলে ওই বাহিনীর হাতে আটক রয়েছেন। তিনি দ্রুত জলদস্যু দমনে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক জানান, সাগরে প্রশাসনিক টহল সার্বক্ষণিক রয়েছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে টহল আরও জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
পাথরঘাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অমিত হাসান বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাহমুদুর রহমান, বরগুনা (পাথরঘাটা-তালতলী)