ফরিদপুরে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে সূর্যমুখীর চাষ
ফরিদপুর শহরের কাছেই ডোমরাকান্দি গ্রাম। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশেই নজরকাড়া সূর্যমুখী ফুলের হলুদ আঙিনা। সেই আঙিনায় হলুদ ফুলের হাসিতে নিজেদের বৈকালিক সময় কাটাতে ছুটে আসে শত শত প্রকৃতিপ্রেমী।
সদর উপজেলার গঙ্গাবর্দী এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) খামারে এবারও চাষ হয়েছে সূর্যমুখী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সূর্যমুখীর চাষ। স্বল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে আবাদ।
জেলা বিএডিসি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে এখানে পরীক্ষামূলকভাবে সূর্যমুখীর চাষ শুরু হয়। বীজ সংগ্রহের জন্যই প্রায় একযুগ ধরে এখানে চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী। বিএডিসির এ বাগানে প্রায় আট একর জমিতে এবার সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। এখান থেকে ১০০ মণের মতো বীজ উৎপন্নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বীজ সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
পরিবার নিয়ে সূর্যমুখী বাগান দেখতে এসেছেন শহরের বাসিন্দা আকাশ। তিনি বলেন, সূর্যমুখী ফুলের বাগান ঘুরে দেখলাম। পরিবারের সঙ্গে ছবি তুললাম। বেশ ভালো লাগল। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য যে কারও হৃদয় কাড়বে।
রাজবাড়ী থেকে আসা স্বপ্না বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে এসেছি। স্মৃতি হিসেবে ছবি তুলে রাখলাম। খুব ভালো সময় কাটল। বাগানে প্রবেশ করলেই মনে হবে, হলুদের আভায় চারিদিকেই যেন ছড়িয়ে আছে অপার মুগ্ধতা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সূর্যমুখী ফুলের বীজ ও তেল অত্যন্ত পুষ্টিকর, যা ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি (লিনোলিক অ্যাসিড) সমৃদ্ধ। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং কোষের ক্ষয়রোধে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া এতে থাকা জিঙ্ক ও সেলেনিয়াম প্রজনন স্বাস্থ্য ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে খুবই কার্যকর। সূর্যমুখী বীজে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই থাকে, যা শরীরের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বীজে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং লিনোলিক অ্যাসিড বিদ্যমান, যা শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। সূর্যমুখী তেল ক্ষতিকর ইরোসিক অ্যাসিড মুক্ত এবং এতে কোলেস্টেরলের মাত্রা খুব কম থাকায় এটি হৃদরোগীদের জন্য একটি ভালো ভোজ্যতেল।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জিয়াউল হক বলেন, সূর্যমুখীর চাষ নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বীজ বপনের মাধ্যমে শুরু হয়। বীজ বপনের পর থেকে ১০০ দিনের মধ্যে এ ফসল তোলা যায়। এতে তুলনামূলক খরচও কম। সামান্য পরিমাণ রাসায়নিক সার ও দুবার সেচ দিতে হয়। প্রতি একর জমিতে ৪৫ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। আর ভালো ফলন হলে প্রতি একর জমিতে উৎপাদিত বীজ থেকে প্রায় ৮০-৯০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। সূর্যমুখী ফুলের গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তাই পরামর্শ ও বীজ নিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চাষিরা ব্যক্তি উদ্যোগে সূর্যমুখীর আবাদ শুরু করছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, সূর্যমুখীর বীজ একটি লাভজনক শস্য। এ বছর জেলায় আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ হেক্টর সেখানে চাষ হয়েছে ২৩ সেক্টর জমিতে। সূর্যমুখী তেলে নানাবিধ স্বাস্থ্যগত গুণাগুণ থাকায় দিন দিন চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এই সূর্যমুখী ফুল চাষ জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর