চিনিকলের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে চন্দনা-বারাশিয়া নদীর পানি
মধুখালী উপজেলায় অবস্থিত ফরিদপুর চিনিকলের বিষাক্ত তরল বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে ওই এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া চন্দনা-বারাশিয়া নদীর পানি। এতে মরে যাচ্ছে দুই নদীর মাছ। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।
বর্তমানে আখ মাড়াই মৌসুমে মধুখালী থেকে বামুন্দী বালিয়াকান্দী সড়কের সেতু এলাকায় মধুখালী থানার ফটক সংলগ্ন খাল দিয়ে চিনিকলের কালো দূষিত বর্জ্য পানি এসে সরাসরি নদীতে পড়ছে। বিশেষ করে আখ মাড়াই মৌসুমে দূষণ হচ্ছে বেশি।
চিনিকল থেকে নির্গত অপরিশোধিত বর্জ্য একটি খালের মাধ্যমে চন্দনা-বারাশিয়া নদীতে গিয়ে মিশছে। নদীর উজান এলাকার প্রায় ৩০০ মিটার দূরে অবস্থিত ফরিদপুর সুগার মিলটি ওই খাল দিয়েই বর্জ্য ছাড়ে।
মিল এলাকা অতিক্রম করার সময় তীব্র রাসায়নিক দুর্গন্ধে পথচারীদের নাক-মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে চলতে হয়।
ওই এলাকার বাসিন্দা সালাম ফকির বলেন, পৌর এলাকার চারটি ওয়ার্ডের প্রায় ছয় হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চিনিকলের রাসায়নিকের দুর্গন্ধ ও চন্দনা-বারাশিয়া নদীর পানি দূষণের কারণে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে। খালটি বিদ্যালয় ও বাজারের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় মধুখালী আইডিয়াল একাডেমি ও ফরিদপুর চিনিকল উচ্চ বিদ্যালয়ের দেড় হাজারের বেশি শিক্ষার্থীসহ মিল গেট বাজারের ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর সুরাহা হওয়া উচিত।
একই এলাকার বাসিন্দা মুনশী আক্কাস বলেন, নদীর এক পাশের পানি পরিষ্কার থাকলেও অন্য পাশ চিনিকলের বর্জ্যে কালো রং ধারণ করেছে। এক মাস আগেও এই নদীর পানি স্বচ্ছ ছিল। কিন্তু চিনিকলের বর্জ্যে নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান বলেন, নদীর ওই অংশ পরিদর্শনকাল বিষাক্ত পানির কারণে নদীর মাছ মারা যেতে দেখেছি।
পরিবেশ অধিদপ্তর, ফরিদপুরের উপপরিচালক সাঈদ আনোয়ার বলেন, বিষয়টি জানতে পেরেছি। দ্রুত সেখানে একজন পরিদর্শককে পাঠানো হবে। পরিদর্শন শেষে মিল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন জানান, চিনিকলের বর্জ্যের কারণে চন্দনা-বারাশিয়া নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। নদী পরিদর্শন করে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে মিল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক ফারহাদ বলেন, চিনিকলের বর্জ্য নদীতে ফেলার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করে বর্জ্য নিজস্ব স্থানে ফেলছি।
এ ব্যাপারে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা জানান, এ বিষয়ে একটা অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগটি পাওয়ার পর মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিডি ও সুগার মিলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছি। আমাদের যেসব নদী-নালা রয়েছে সেগুলো কোনোভাবেই আমরা নষ্ট হতে দেব না।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর