ভারতে দূষিত পানি পানে ১০ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৪০০
ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ইন্দোর শহরে ভয়াবহ পানি দূষণ ও পানি সংকটে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও দূষিত পানি পান করে এক হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো রাজ্যে একটি বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি হয়েছে। খবর দ্য হিন্দুস্থান টাইমসের।
প্রাথমিক তদন্ত ও ল্যাব রিপোর্টে দেখা গেছে, ইন্দোরের ভাগীরথপুরা এলাকার পান করার পানির নমুনায় নর্দমার ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গত তিন দিন ধরে ওই এলাকার বাসিন্দারা বমি ও ডায়রিয়ার লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে শুরু করলে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। নর্দমার পানি পান করা পানির লাইনে মিশে যাওয়ায় এই বিষক্রিয়া ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় বিরোধী দলের তীব্র সমালোচনা ও জনরোষের মুখে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। তিনি কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের গাফিলতির দায়ে ইন্দোর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের অতিরিক্ত কমিশনার ও পানি বণ্টন বিভাগের সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ারকে অবিলম্বে বরখাস্ত ও অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আমি ইন্দোর পৌর করপোরেশনের কমিশনার ও অতিরিক্ত কমিশনারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছি। এছাড়া অতিরিক্ত কমিশনারকে অবিলম্বে অপসারণ ও পানি বণ্টন বিভাগের দায়িত্বে থাকা সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ারকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। পৌর করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ শূন্য পদগুলোও দ্রুত পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
ইন্দোরের প্রধান চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (সিএমএইচও) মাধব প্রসাদ হাসানি জানিয়েছেন, আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সিনিয়র ডাক্তার ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি সংবাদমাধ্যম এএনআই-কে বলেন, ‘সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর তথ্য আমাদের কাছে আছে। তবে তদন্ত চলছে, অতিরিক্ত তথ্য ও প্রমাণ পেলে এই সংখ্যা আপডেট করা হবে। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
ভাগীরথপুরা এলাকার পানি সংকট কাটাতে ও দূষণমুক্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় শহরজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাজনৈতিক মহলে এই ইস্যু নিয়ে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, যেখানে বিরোধীরা সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে দায়ী করছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক