ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিক্ষোভ, সহিংসতায় নিহত ৬
ইরানে জীনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ ও সহিংসতায় কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছে। এরমধ্যে দেশটির লোরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরে প্রতিবাদ জানানোর সময় সহিংসতায় তিনজন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে আরও ১৭ জন। এই শহরটি রাজধানী তেহরান থেকে ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে। খবর এএফপির।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রাজপথে বিভিন্ন জিনিসে আগুন জ্বলছে, থেকে থেকে গুলির প্রতিধ্বনি হচ্ছে। রাস্তায় লোকজন ‘নির্লজ্জ! নির্লজ্জ!’ বলে চিৎকার করছে।
এর আগে সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছিল, ইরানের চাহারমহল ও বখতিয়ারি প্রদেশের লোরদেগান শহরে প্রতিবাদ জানানোর সময় দুইজন নিহত হয়েছে। এই শহরটি তেহরান থেকে ৪৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।
বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় বেশ কিছু প্রতিবাদী লোক লোরদেগান শহরের প্রশাসনিক ভবনগুলোতে পাথর ছুড়ে মারে। এ সময় প্রাদেশিক গভর্নরের অফিস, মসজিদ, শহীদ ফাউন্ডেশন, টাউন হল ও কয়েকটি ব্যাংক ইটপাটকেলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশকে এ সময় টিয়ার শেল ছুড়তে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় জনতা রাস্তায় জড়ো হচ্ছে গুলির শব্দ উপেক্ষা করে।
বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, বিক্ষোভ থেকে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতে পশ্চিমাঞ্চলীয় খুদাস্ত শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য নিহত হয়েছে। টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কাজ করতে গিয়ে দাঙ্গাকারীদের হাতে ‘বাসিজ’ বাহিনীর একজন সদস্য মারা গেছেন। বাসজ ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
গত রোববার ইরানের দোকানদাররা জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় ও মুদ্রার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে।
পশ্চিমা দেশগুরোর আরোপ করা বাণিজ্য অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মক সংকটের মধ্যে পড়েছে। দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। গত বছরের জুন মাসে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব ও পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর পর পর দেওয়া হয় এই আন্তর্জাতিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা।
আলজাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, সরকার এই বিক্ষোভকে আগের বিক্ষোভের তুলনায় অত্যন্ত সতর্কভাবে মোকাবিলা করছে। আসাদি জানান, সরকার বলছে তারা একটি সমাধান বের করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার স্বীকার করছে অর্থনৈতিক দুরাবস্থায় জনগণের কষ্ট হচ্ছে।
২০২২ ও ২০২৩ সালে ইরানে ব্যাপক গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল মাহশা আমিনি নামে এক তরুণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। দেশটির পোশাক আইন ভঙ্গের অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক অবস্থায় মাহশা মারা গেলে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
তবে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে প্রথমে শুরু হয় তেহরানে। গত মঙ্গলবার অন্তত ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এসে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে।
বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দেশের অর্থনীতির কাঠামো উন্নয়নে এবং জনগণের ‘বৈধ দাবি’ পূরণে কাজ করতে নির্বাহী বিভাগের প্রতি নির্দেশনা দেন।
এদিকে, ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমে মোহাজেরানি বৃহস্পতিবার বলেছেন, সরকার ব্যবসায়ী ও ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে শিগগির বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে তিনি কিছু জানাননি।
ইরানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেল বলেছেন, অর্থনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে দেশে নিরাপত্তাহীনতার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক