মজুত থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়বে আইইএ সদস্য দেশগুলো
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব কমাতে সদস্য দেশগুলো তাদের জরুরি মজুত থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়বে। এটি ইতিহাসে এ ধরনের তেলের সবচেয়ে বড় বাজারে ছাড়ার ঘটনা। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
আইইএ-র নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল আজ বুধবার (১১ মার্চ) এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা তেলের বাজারে যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি তা নজিরবিহীন। তাই আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, আইইএ সদস্য দেশগুলো নজিরবিহীন জরুরি পদক্ষেপের মাধ্যমে সাড়া দিয়েছে।’
প্যারিস-ভিত্তিক এই সংস্থার তেল ছাড়ার সমন্বিত এই পদক্ষেপ ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের সময় ছাড় করা ১৮ কোটি ২০ লক্ষ ব্যারেলের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। আইইএ জানিয়েছে, প্রতিটি দেশের জাতীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই মজুত বাজারে সরবরাহ করা হবে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জি-৭ নেতাদের এক ভিডিও কনফারেন্সের পর এই ঘোষণা আসে। সেখানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট ব্যাপক অর্থনৈতিক বিপর্যয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে আজ বুধবার জাপান এবং জার্মানি তাদের নিজস্ব মজুত ব্যবহারের ঘোষণা দেয়। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি জানান, তার দেশ আগামী সোমবার থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু করবে। তিনি বলেন, ‘জাপান তেলের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল এবং আমরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব, তাই আমরা কৌশলগত মজুত ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ জার্মানির জ্বালানি মন্ত্রী ক্যাথরিনা রাইখ জানিয়েছেন, তারা ২৪ লাখ টন তেল বাজারে ছাড়বে।
ট্রানজিট সমস্যা
গত মাসের শেষ থেকে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি সংঘাতের ফলে তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরান পাল্টা হামলার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়। মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ডগ বারগাম অবশ্য দাবি করেছেন, বিশ্বে জ্বালানির ঘাটতি নেই, সমস্যাটি কেবল ‘ট্রানজিট’ বা পরিবহনের।
ফ্রান্সের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে তেলের অভাবের চেয়ে বড় সমস্যা হলো এর উচ্চমূল্য। তাই বাজারকে একটি শক্তিশালী সংকেত দিতেই তেলের মজুত ব্যবহারের এই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
সুইসকোট ব্যাংকের বিশ্লেষক ইপেক ওজকারডেসকায়া জানান, আইইএ দেশগুলো প্রতিদিন প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল ব্যবহার করে, সেই তুলনায় ৪০ কোটি ব্যারেল একটি সাময়িক সমাধান মাত্র। যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন ইতিমধ্যে প্রায় ৬ শতাংশ কমে গেছে।
তেলের দাম বাড়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশ তাদের জ্বালানি ডিপো রক্ষায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে, ভারত প্রাকৃতিক ও রান্নার গ্যাসের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে এবং ফ্রান্সের কর্মকর্তারা পেট্রোল স্টেশনে নজরদারি বাড়িয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের জরিমানা করছে।
উল্লেখ্য, আইইএ-র ৩২টি সদস্য দেশের কাছে বর্তমানে ১২০ কোটি ব্যারেলের বেশি সরকারি জরুরি তেল মজুত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ এর অধিকাংশ সদস্যই ইউরোপ মহাদেশের।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক