ইরান বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে যুক্তরাষ্ট্র ‘তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে’ : ট্রাম্প
ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভ দমনে কড়াকড়ি ও প্রাণহানির ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায় বা হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র চুপ করে বসে থাকবে না। তাঁর ভাষায়, মার্কিন বাহিনী বর্তমানে ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ (পুরোপুরি প্রস্তুত) অবস্থায় রয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পোস্টে লেখেন, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করা ইরান সরকারের পুরোনো অভ্যাস। যদি তারা আবারও এমনটা করে, তবে আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন, ‘আমরা যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত এবং আমাদের লক্ষ্যস্থির করা আছে।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ শব্দগুচ্ছকে সামরিক হস্তক্ষেপের প্রচ্ছন্ন হুমকি হিসেবেই দেখছেন।
ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, গত কয়েকদিন ধরে চলা এই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ফার্স’ জানিয়েছে, চাহারমাহাল ও বাখতিয়ারি প্রদেশের লোরদেগান শহরে দুইজন এবং পার্শ্ববর্তী লোরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরে তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া পশ্চিমাঞ্চলীয় কুহদাশত শহরে বিক্ষোভ দমনের সময় ‘বাসিজ’ বাহিনীর (বিপ্লবী গার্ড সংশ্লিষ্ট) ২১ বছর বয়সী এক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নিশ্চিত করেছে।
গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও স্থানীয় মুদ্রা ‘রিয়ালের’ নজিরবিহীন দরপতনের প্রতিবাদে ধর্মঘটের মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। দ্রুতই তা দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল ও অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়ে। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর ইরানে এটিই সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা অর্থনৈতিক দুর্দশার পাশাপাশি দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতেও স্লোগান দিচ্ছেন।
ট্রাম্পের এই হুমকির প্রতিবাদে ইতোমধ্যেই জাতিসংঘে চিঠি দিয়েছে ইরান। তেহরান বিষয়টিকে একটি স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
উল্লেখ্য, গত বছরও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক