ইরান নিয়ে ‘অত্যন্ত কঠোর বিকল্প’ বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দেশটির বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত কঠোর বিকল্প’ বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য বিকল্পগুলোর মধ্যে সামরিক হস্তক্ষেপও রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
স্থানীয় সময় রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সেনাবাহিনী বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং আমরা কিছু খুব শক্ত বিকল্প নিয়ে ভাবছি। শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
ট্রাম্প দাবি করেন, সামরিক পদক্ষেপের হুমকির পর ইরানের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব এসেছে এবং একটি বৈঠকের প্রস্তুতিও চলছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈঠকের আগেই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।
এদিকে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর ইরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ক্বালিবাফ বলেছেন, ইরানে হামলা হলে ইসরায়েলসহ সব মার্কিন ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।
আরও পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে কঠোর প্রতিশোধের হুমকি ইরানের
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। ইরানি মুদ্রা রিয়ালের তীব্র দরপতনের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, বরং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় শাসনের বিরোধিতায় রূপ নেয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর সংখ্যা সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। বিদেশভিত্তিক বিরোধী কর্মীদের দাবি, নিহতদের মধ্যে শতাধিক সাধারণ বিক্ষোভকারী রয়েছেন।
এদিকে টানা ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইরানে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে বলে বিভিন্ন মনিটরিং সংস্থা জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ
এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ইরান পরিস্থিতি নিয়ে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনায় সামরিক হামলা, গোপন সাইবার অস্ত্র ব্যবহার, নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করা এবং সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে অনলাইনে সহায়তা দেওয়ার মতো বিকল্প উঠে আসতে পারে।
ট্রাম্প আরও জানান, ইরানে ইন্টারনেট পুনরুদ্ধারের বিষয়ে তিনি ইলন মাস্কের সঙ্গে কথা বলতে চান। স্পেসএক্সের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ইরানে ব্যবহৃত হচ্ছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, এই কাজে সে (ইলন মাস্ক) খুব ভালো। তার একটি দুর্দান্ত কোম্পানি আছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক