ইরানে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯২
ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং চরম অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভে গত দুই সপ্তাহে অন্তত ১৯২ জন নিহত হয়েছেন। আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে সংস্থাটি নিহতের সংখ্যা ৫১ জন বলে জানিয়েছিল। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
মানবাধিকার সংস্থাটি জানিয়েছে, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে নিহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বাজার থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বর্তমানে দেশের প্রায় সবকটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালানো হচ্ছে। এদিকে দেশজুড়ে ইন্টারনেট কয়েক দিন ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় হতাহতের সঠিক তথ্য পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। সংস্থাটি বলছে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ১৯২ এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।
দ্রুত মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মুদ্রার ব্যাপক দরপতনের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন বর্তমান ধর্মীয় সরকারের পতনের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। তেহরান ছাড়াও মাশহাদ, তাবরিজ ও কোমের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে স্লোগান দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, এই আন্দোলনকে ‘বিদেশি শক্তির মদদপুষ্ট দাঙ্গা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইরান সরকার। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। আজ রাতেই দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে অর্থনীতির সংস্কার ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বলে কথা রয়েছে।
ইরানে চলমান এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক