ইরানে স্থল বাহিনী পাঠানো নিয়ে যা বললেন পিট হেগসেথ
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানে পদাতিক সৈন্য পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সপ্তাহান্তে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
গত শনিবার থেকে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মার্কিন বাহিনী ইরানে ব্যাপক হামলা শুরু করেছে। এরপর থেকে তারা দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, নৌবাহিনী এবং কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সাইটসহ শত শত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পদাতিক সৈন্য বর্তমানে সেখানে আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘না, তবে আমরা কী করব বা কী করব না, সেই চর্চায় এখন যাব না। আমাদের যতটুকু যাওয়া প্রয়োজন, আমরা ততটুকুই যাব।’
যুদ্ধের সময়সীমা প্রসঙ্গে হেগসেথ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে প্রাসঙ্গিকভাবে একটি ধারণা রয়েছে যে, এই দপ্তর মার্কিন জনগণকে এবং সেইসঙ্গে আমাদের শত্রুদের বলে দেয় যে—আমরা ঠিক এটাই করব, বা আমরা ঠিক এত সময় পর্যন্ত লড়ব। তাই বলছি এই যুদ্ধ চার সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ কিংবা ছয় সপ্তাহ চলতে পারে; এটি বাড়তে পারে আবার কমতেও পারে।’
পিট হেগসেথ ইরান অভিযানকে ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের চেয়ে আলাদা করার চেষ্টা করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি ইরানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কোনো প্রচেষ্টা নয়।
পেন্টাগন প্রধান বলেন, ‘এখানে যুদ্ধের খারাপ কোনো নিয়ম নেই, নেই জাতি গঠনের চোরাবালি বা গণতন্ত্র তৈরির মহড়া। কোনো ধরনের রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত যুদ্ধ এটি নয়। আমরা জয়ের জন্য লড়ি এবং আমরা সময় বা জীবন অপচয় করি না।’
পিট হেগসেথ আরও বলেন, “এটি ইরাক নয়। এটি অন্তহীন কোনো বিষয় নয়। আমাদের প্রজন্ম এবং আমাদের প্রেসিডেন্ট—সবাই ভালো জানেন। তিনি গত ২০ বছরের জাতি গঠনমূলক যুদ্ধগুলোকে 'বোকামি' বলেছেন এবং তিনি সঠিক।”
হেগসেথ দাবি করেন, ‘প্রতিদিন আমাদের সক্ষমতা বাড়ছে এবং ইরানের সক্ষমতা কমছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধের শর্ত আমরাই নির্ধারণ করছি। আমাদের লক্ষ্য অলীক বা ইউটোপিয়ান নয়; এটি আমাদের স্বার্থ এবং আমাদের জনগণ ও মিত্রদের রক্ষার জন্য বাস্তবসম্মত।’
পিট হেগসেথের পাশাপাশি মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন এ সময় কথা বলেন। তিনি জানান, ইরানের ওপর আকাশপথের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে।
কেইন বলেন, ‘মার্কিন বাহিনী হামলায় স্থানীয়ভাবে আকাশপথের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এটি কেবল আমাদের বাহিনীর সুরক্ষাই নিশ্চিত করবে না, বরং ইরানে তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগও করে দেবে।’

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক