ইরানে অস্থিতিশীলতা ছড়াতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল : পেজেশকিয়ান
ইরানের মাটিতে সাম্প্রতিক সামরিক হামলার নেপথ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মূল উদ্দেশ্য ছিল সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে নজিরবিহীন নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে দেওয়া। আজ রোববার (১৭ মে) তেহরানে সফররত পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। খবর আলজাজিরার।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বৈঠকে জানান, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সেই অশুভ পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আর এই ব্যর্থতার পেছনে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সহযোগিতা সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
বৈঠকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের প্রতিবেশীরা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে কোনো অপশক্তি যাতে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না পারে, তা প্রতিরোধে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর এই সহযোগিতা অত্যন্ত মূল্যবান এবং প্রশংসনীয়।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে এবং মার্কিন-ইসরায়েলি চাপ উপেক্ষা করে পাশে দাঁড়ানোর জন্য পেজেশকিয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান, ইরাক ও আফগানিস্তান সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিপদের সময়ে এই তিন রাষ্ট্র তাদের নিজেদের মাটি থেকে ইরানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের উসকানিমূলক বা বৈরী পদক্ষেপ নিতে দেয়নি, যা আমাদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার অনন্য নজির।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর তেহরানের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি এমন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি স্পষ্ট করে, মার্কিন ও ইসরায়েলি জোট ইরানকে আঞ্চলিকভাবে একঘরে করার যে কূটনৈতিক ও সামরিক চেষ্টা চালিয়েছিল, প্রতিবেশীদের অনমনীয় অবস্থানের কারণে তা কার্যত ভেস্তে গেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক